যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে ডেমোক্র্যাটরা বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, মিশিগান, টেক্সাস, কানসাস, মেইন ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া আলাস্কাতেও তারা সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন এবং আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ছয়টিতেই ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান এগিয়ে অথবা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ষষ্ঠ অঙ্গরাজ্য আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান প্রায় নেই বললেই চলে।
নির্বাচনের সমীকরণ অনুযায়ী, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের সব আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত চারটি আসনে জয়লাভ করতে হবে। বর্তমানে রিপাবলিকান সিনেটর রয়েছেন এমন পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকা দলটির জন্য বড় ইতিবাচক ইঙ্গিত। তবে আইওয়ার মতো ব্যাটলগ্রাউন্ডগুলোতে লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি পর্যায়ে রয়েছে। তবে রিপাবলিকান-অধ্যুষিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আসন পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ থাকায় শুরু থেকেই ডেমোক্র্যাটদের সামনে কঠিন সমীকরণ ছিল।
টেক্সাস ও কানসাসে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেট নির্বাচনে জিততে পারেননি। একইভাবে কানসাসে ১৯৩২ সালের পর ডেমোক্র্যাটরা আর সিনেটে জয় পায়নি। এছাড়া মিশিগানে দলটির প্রার্থী দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, সেখানে ডেমোক্র্যাট শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরির আগেই জরিপটি পরিচালিত হয়েছিল। নর্থ ক্যারোলাইনা যদিও এই জরিপের অংশ ছিল না, তবে সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এগিয়ে আছেন এবং রিপাবলিকানরা প্রচারণার ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া নর্থ ক্যারোলাইনাকে জরিপের আওতায় রাখা হয়নি।
জরিপে ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি ব্যাপক অসন্তোষ ফুটে উঠেছে। অংশগ্রহণকারী ভোটারদের মধ্যে মাত্র ৩৮ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন। অথচ দুই বছর আগেও এসব অঙ্গরাজ্যের পাঁচটিতে ট্রাম্প দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। বর্তমান জরিপে তার প্রতি সমর্থনের এই উল্লেখযোগ্য পতন রিপাবলিকানদের নির্বাচনি কৌশলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।