, ,

মিরপুরের ওয়াওজা: অপটিক্যাল ইলুশনের জাদুকরী বিনোদন কেন্দ্র

রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরে অবস্থিত হাজী কুজরাত আলী মোল্লা মার্কেটের চতুর্থ তলায় যাত্রা শুরু করেছে দেশের প্রথম প্রিমিয়াম ইলুশন ও ইমারসিভ এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম ‘ওয়াওজা’। উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই অভিনব এই বিনোদনকেন্দ্রটি দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। এটি এমন এক জায়গা, যেখানে দুই-তিন বছরের শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের মানুষ নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারে। ওয়াওজা এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম হলেও এতে আছে নানা ধরনের গেম ও অ্যাক্টিভিটি সেগমেন্ট, যা একে অন্য যেকোনো বিনোদনকেন্দ্র থেকে আলাদা করে তুলেছে। এমন অসম্ভবকে সম্ভব করেছে মিরপুর ১২ নম্বরে অবস্থিত সদ্য চালু হওয়া চিত্তবিনোদনকেন্দ্র ওয়াওজা। অপটিক্যাল ইলুশনকে কাজে লাগিয়ে ছোট-বড় সব বয়সীর জন্য সাজানো হয়েছে এই বিনোদনকেন্দ্র। উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মাথায় ইতিমধ্যে ওয়াওজা রাজধানীবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ঘোরাঘুরি কিংবা ব্যবসার কাজে কোনো দেশ ভ্রমণে গেলে প্রথমেই যে কেউ সেখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চান। এমন নানা উদ্যোগ এখন দেশে দেখা গেলেও এই তরুণদের মতে, ওয়াওজা সেসব থেকে আলাদা। ‘এক্সপেরিয়েন্স দ্য আনরিয়েল’ স্লোগানকে ঘিরে গড়ে ওঠা ওয়াওজাতে আছে নানা আকর্ষণ। মা–বাবা, ভাই-বোন কিংবা দম্পতি—ছবির জন্য সবার পছন্দ এই ঘর। মূলত দেয়ালের মতো হুবহু দেখতে একটি পোশাক আছে এই জাদুর পেছনে, সঙ্গে চোখের ধোঁকা। সত্যি বলতে এখানেও ভিন্নতা এনেছে ওয়াওজা।

একদল তরুণের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক মানের থ্রিডি আর্ট গ্যালারি ও অপটিক্যাল ইলুশন মিউজিয়ামের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরা। ওয়াওজার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হৃদয় চৌধুরী জানান, দর্শকদের জন্য জায়গাটিকে অপটিক্যাল ইলুশন, পারস্পেকটিভ আর্ট এবং গেমিং জোন—এই তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি দর্শনার্থী নতুন কোনো অভিজ্ঞতা পায়।

ওয়াওজার অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘ভর্টেক্স টানেল’।

অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতর লাল-নীল আলোর ছটায় পায়ের নিচের মাটি নড়ছে বলে মনে হয়, যা এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেয়। ধরুন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু আপনার পায়ের নিচের মাটি নিজ থেকেই সরে যাচ্ছে, মনে হতে পারে এ কী করে সম্ভব। আরেকটু সামনে গিয়ে দেখতে পেলেন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে হুবহু আরও কয়েকখানা আপনি। মনে হতেই পারে আপনি হয়তো স্বপ্ন দেখছেন, ঘুমটা বুঝি এখনই ভাঙল। সুড়ঙ্গে পা দিলেই মনে হয় নড়ছে পায়ের নিচের মাটি, গোল গোল ঘুরছে পুরো সুড়ঙ্গ। এই সময়ে আপনার অঙ্গভঙ্গিকে হুবহু অনুকরণ করবে সেই ক্যারেক্টার। শুধু খুঁজে পাওয়া যাবে আপনার মুখখানা। শুধু তাই নয়, অন্যদিকে তাকালে আয়নার জাদুতে আপনি পরিণত হবেন কয়েক খানায়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে জীবন্ত এক শহর, আপনার সঙ্গেই যা হাঁটছে।

এছাড়া ‘শ্যাডো ড্যান্স’ অংশে স্ক্রিনে মাইকেল জ্যাকসন বা হাল্কের মতো চরিত্র বেছে নিয়ে নিজের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাচ উপভোগ করা যায়, যেখানে সিস্টেমটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রতিফলন ঘটায়। দেওয়া হবে ৩০ সেকেন্ড সময়।

শিগগিরই এখানে নভোচারীদের পোশাক যুক্ত করা হবে যাতে টিল্ট রুমে চাঁদের মাটিতে হাঁটার অভিজ্ঞতা আরও বাস্তব হয়ে ওঠে। এই ভেবে যখন দু কদম যাবেন, ঠিক তখনই নিজেকে আবিষ্কার করলেন চাঁদের মাটিতে।

পাশাপাশি ‘অ্যামস রুম’-এর দৃষ্টিভ্রমের খেলায় দুই কোণে দাঁড়ালে একজনকে দৈত্যের মতো বড় আর অন্যজনকে ছোট দেখাবে। ‘ক্যামোফ্লাজ রুম’ দর্শনার্থীদের অদৃশ্য হওয়ার অনুভূতি দেয়, যা ছবি তোলার জন্য বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া রঙিন শহরের জীবন্ত থ্রিডি আর্ট এবং সূর্যমুখীর বাগানে ঘেরা মিরর মেইজ দর্শকদের এক অদ্ভুত জগতে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। কিছুটা বাঁকানো এই ঘরে অবিকল চাঁদে পা রাখার মতো অনুভূতি পাবেন। এগুলোর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা, সাহায্যের জন্য থাকছেন ওয়াওজার কর্মীরা। এই থ্রিডি, পারস্পেকটিভ ওয়াল আর্টসের মধ্যে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ধাঁধায় ফেলবে রঙিন এক শহরের দৃশ্য।

শুধুমাত্র দেখার বিষয় নয়, এখানে রয়েছে নানা ধরনের ইন্টারঅ্যাকটিভ গেমস। লাল-নীল ব্লকের খেলা থেকে শুরু করে নাটাই দিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর ভিডিও গেম—সব মিলিয়ে ইনডোর এবং আউটডোর গেমসের এক অনন্য সমন্বয় এখানে রয়েছে।

ওয়াওজায় প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। একটি টিকেটে এক ঘণ্টার স্লট পাওয়া যায়, যেখানে ওই সময়ের মধ্যে সব গেমস ও অ্যাক্টিভিটি যতবার ইচ্ছা উপভোগ করা সম্ভব। দর্শনার্থীদের জন্য এটি প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে।