মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৮ উইকেটের পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত এবং রিভিউ ব্যবস্থার ‘আম্পায়ারস কল’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখোমুখি হন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে প্রশ্নকারী সাংবাদিক ঘটনাটি চারটির কথা বললে তাকে সংশোধন করে দিয়ে নাজমুল জানান, আম্পায়ারস কল তাদের বিরুদ্ধে গেছে আসলে পাঁচবার। একাধিক সিদ্ধান্ত বিপক্ষে যাওয়া নিয়ে খেদোক্তি প্রকাশ করে শান্ত বলেন, ‘মিথ্যা বলব না, তখন স্বাভাবিকভাবেই একটু হতাশ লাগে।’ প্রশ্নটা করার সময়ই সাংবাদিককে শুধরে দিলেন নাজমুল হোসেন, ‘আম্পায়ারস কল’ বাংলাদেশের পক্ষে যায়নি এমন ঘটনা চারটি নয়, আসলে ৫টি। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হেরে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ নিয়ে জানালেন হতাশার কথাও। তবে এই ঘটনাকে অজুহাত হিসেবেও দাঁড় করাতে চাননি নাজমুল। অবশ্যই ওদেরকে একটু কৃতিত্ব দিতে হবে কিন্তু আমি বলব যে আমরা এই উইকেটে আরেকটু ভালো বল করতে পারতাম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন ১৭০ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামে, তখন প্রথম ওভারেই মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দুবার এলবিডব্লুর আবেদন থেকে আম্পায়ারস কলের কল্যাণে বেঁচে যান ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। পরবর্তীতে আরও তিনবার একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ, যেখানে রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত পক্ষে আসেনি। শান্তর মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভাগ্যের সাহায্য প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন প্রতিপক্ষকে ১৭০ রানের লক্ষ্য দেবেন, তখন আম্পায়ারস কল পাঁচটার মধ্যে তিনটা আপনার পক্ষে দরকার হবে। দুর্ভাগ্যবশত আজকে তা হয়নি। এটা খেলার অংশ, তাই আম্পায়ারকে দোষ দেওয়ার সুযোগ নেই।’ আম্পায়ারকে আপনি দোষও দিতে পারবেন না। তবু তারা যে লক্ষ্য দিতে পেরেছিল, তা নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বাস ছিল, ম্যাচটা তারা জিততে পারে।
ম্যাচটিতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। ৫৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ৮ নম্বরে নামা নাঈম হাসানের অর্ধশতকে ভর করে ১৪২ রান তুলে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। উইকেটের পরিস্থিতির বিচারে শান্ত বিশ্বাস করেছিলেন এই রান নিয়ে লড়াই করা সম্ভব। তবে বোলিংয়ে ঘাটতি ছিল জানিয়ে তিনি স্বীকার করেন যে, উইকেটের সুবিধা অনুযায়ী বোলাররা প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি।
তবে পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে শান্ত নির্দেশ করেছেন প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতাকে। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ২১৩ রান তুলে শক্ত অবস্থানে ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই চিত্র বদলে যায়, মাত্র ২৭২ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি অর্থাৎ শেষ ৭ উইকেট পড়ে যায় অতি দ্রুত। অপরদিকে প্রতিপক্ষ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৩ রান তুলে ফেলায় ম্যাচ সেখানেই হাতছাড়া হয়ে যায় বলে মনে করেন টাইগার অধিনায়ক। শান্ত বলেন, ভুলটা প্রথম ইনিংসেই হয়ে গিয়েছিল এবং শেষ ইনিংসে ব্যাট করা যে কঠিন হবে তা তাদের জানা ছিল। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁরা যেভাবে ব্যাটিং ও বোলিং করেছেন, টেস্ট থেকে বাংলাদেশকে ছিটকে দিয়েছে সেটিই। এখান থেকে প্রথম ইনিংসে বড় কোনো সংগ্রহ গড়তে পারলে কাজটা সহজ হয়ে যেত পরের ইনিংসে। এখানেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করেন নাজমুল, ‘আমার মনে হয়, এই ম্যাচে আমরা প্রথম ইনিংসেই ব্যাকফুটে চলে গেছি।