, ,

নীরব হেফাজতের নেতারা

বিশেষ প্রতিবেদক
কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে নারায়ণগঞ্জে হয়ে গেলো স্বরণকালের বৃহত্তম মহাসমাবেশ। এর মাধ্যমে জাতীয়ভাবে কাদিয়ানী সম্প্রদায় ইস্যুতে বড় একটি অবস্থান ব্যক্ত করলো হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ। নারায়ণগঞ্জে ধর্মীয় ইস্যুতে এতবড় সমাবেশ ইতিপূর্বে লক্ষ করেনি স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে বিরাজমান সমস্যা নিয়ে দাবী তোলা উচিৎ ছিল বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, হেফাজত এখন পর্যন্ত চাষাঢ়ার মদের বার নিয়ে কোন কর্মসূচী দেয়নি। এমনকি বিভিন্ন এলাকায় ডিজে পার্টির বেহায়াপনা নিয়েও নীরব রয়েছে তারা।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে অন্যতম দুইটি আলোচিত বিষয় হচ্ছে চাষাঢ়ায় মসজিদের পেছনে স্থাপিত মদের বার ও মধ্যরাতে এক শ্রেনীর অসভ্য ব্যক্তিদের ডিজে পার্টির আয়োজন। দুইটি বিষয়েই গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে বেশ কয়েকদিন। সর্বশেষ ২৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন হয় আলোচিত রেস্তোরা ব্লু পিয়ার। যে রেস্টুরেন্টে ইতিমধ্যে মদের বার তৈরী করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে রেস্তোরার আড়ালেই পরিচালিত হবে মদের বার ব্যবসা। কারন হিসেবে বলছেন, মদের বার পরিচালনার লাইসেন্স নিয়ে মদ বিক্রি হতে বিরত থাকবে এমনটা ভেবে নেয়া নিতান্তই বোকামি। কিন্তু এ নিয়ে টু শব্দও করেননি হেফাজতের নেতৃবৃন্দ।
তবে এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একক ভাবে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছিলো মদের বারের বিরুদ্ধে। সেসময় কঠোর ভাবে মদের বার বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন দলটির নেতৃবৃন্দ। পরবর্তী সময়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করার কথা থাকলে রহস্যজনক কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। হেফাজত নেতারা কাদিয়ানীদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন খুব সহজেই। আদৌ এ নিয়ে সামনে এগোবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
একই ভাবে নারায়ণগঞ্জে প্রায় রাতেই সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাত ২/৩টা পর্যন্ত উচ্চস্বরে ডিজে পার্টি করে আশেপাশের মানুষকে অসহ্যকর কষ্ট দিয়ে থাকে। বিশেষ করে বিয়ে, গাঁয়ে হলুদ, জন্মদিন, স্থানীয় উৎসব, বিশেষ দিনগুলোকে কেন্দ্র করে চলে এমন অসহনীয় গানবাজনা। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে দিয়ে চলে এদের রঙ্গলীলা। এসকল বখাটেদের উৎপাতে খোদ স্থানীয়রাও ভয়ে কিছু বলতে পারেনা। পুলিশে অভিযোগ দিলে পুলিশ এসে খাওয়া দাওয়া করে সাথে বখশিশ নিয়ে চলে যায়। পুলিশ চলে যাবার পর গানের শব্দ বেড়ে দ্বিগুণ হয়। ফলে অত্যাচার থেকে কোনভাবেই নিস্তার পায়না সাধারণ বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা বলছেন, নারায়ণগঞ্জের বাইরে থেকে কাজের সুবাদে আসা বিভিন্ন নি¤œ শ্রেনীর পেশাজীবিরা সাধারণত এই ধরণের কাজকর্ম করে থাকে। এরা সংখ্যায় অধিক হওয়ার কারনে ধীরে ধীরে নগরবাসী জিম্মি হয়ে যাচ্ছে তাদের কাছে। নারায়ণগঞ্জের সংস্কৃতি বিরোধী কাজ করেও এরা পার পেয়ে যাচ্ছে । উচ্চস্বরে গান বাদ্যের ফলে বয়স্ক ও শিশুরা মারাত্বক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরছে। একই ভাবে ধর্মপ্রান মুসুল্লিরা রাতে ঘুমুতে না পারায় ফজরের নামাজ পড়তে পারছেন না। অথচ পুলিশ এসব ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখলে সহজেই নিস্তার পাওয়া যায়।
ধর্মপ্রান বাসিন্দারা বলছেন, জাতীয় নেতৃবৃন্দের সামনে বিষয়টি উত্থাপিত করা হলে নারায়ণগঞ্জের জন্যে হলেও তারা আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিয়ে যেতেন। কিন্তু সেটি না করায় একদিকে যেমন বিস্মিত হয়েছেন স্থানীয়রা, তেমনি অনতিবিলম্বে এসকল বিষয়ের জন্য কার্যসূচী নির্ধারন করে স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন। চাপ ব্যতিত কোন দাবীই আদায় হয় না। আর সেই কারণেই হেফাজত নেতাদের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা।