, ,

রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত |: ইসরাইল নিয়ে ট্রাম্পের

সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক সিদ্ধান্তে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, ইসরাইলকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের যে সহায়তা দেওয়া হতো, তা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বন্ধ হয়ে যাবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে তিনি এই সিদ্ধান্তের কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি, যে কারণে এটি আসলে কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার সাথে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে তার সম্পর্কের একটি নতুন ও জটিল অধ্যায়ের সূত্রপাত হতে পারে। ইরান যুদ্ধে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অংশীদার হলেও, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বিষয়টি ভিন্ন মোড় নিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকার অভ্যন্তরে জনমত ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলেও প্রতিফলিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরাইলকে সহায়তার বিষয়টি ক্রমশ স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে। মিশিগানের ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল আল-সাইয়েদসহ অনেকেই মার্কিন অর্থ সহায়তার তীব্র বিরোধিতা করছেন। আল-সাইয়েদের দাবি, ইসরাইলের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে অনেকে আল-সাইয়েদের মতো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মোকাবিলায় একটি কৌশলগত চাল হিসেবেও দেখছেন। এছাড়া, রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভরাডুবির আশঙ্কার মাঝে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান ভোটারদের আকৃষ্ট করার একটি উপায় হতে পারে বলে সিএনএনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

ইসরাইলি রাজনীতিতেও এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই সংকটের মুহূর্তে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সহায়তার অর্থ বন্ধের ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কংগ্রেসের নতুন প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেট ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নে কী ধরনের অবস্থান নেবে, তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ট্রাম্প পুরোপুরি সহায়তার দরজা বন্ধ করে দেননি। তিনি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন যে, ইসরাইলের প্রয়োজন হলে আমেরিকা অবশ্যই সহায়তা প্রদান করবে। কিন্তু তার এই দ্বিমুখী বার্তা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ জনমতের চাপে অস্ত্র সহায়তা কমানোর বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য বর্তমানে বড় ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা কেবল ইসরাইল-আমেরিকা সম্পর্কের সমীকরণই বদলে দিচ্ছে না, বরং আমেরিকার আগামী দিনের পররাষ্ট্রনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।