হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম তিন ম্যাচ জিতে ভারত সিরিজ নিশ্চিত করলেও, শেষ দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সিরিজটি ইতিবাচকভাবে শেষ করল কিউইরা। ভারতের দেওয়া ১৯১ রানের লক্ষ্য স্বাগতিকরা পূরণ করে ১২ বল বাকি থাকতেই। বল হাতে এই পেসারের তোপে দিশেহারা ভারতের ব্যাটসম্যানরা। ভারতের ১৯১ রান ১২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।
ম্যাচের শুরুতেই ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন নিউজিল্যান্ডের পেসার অ্যাডাম মিলনে। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচ করে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন, যা তাকে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি এনে দেয়। এছাড়া নাথান স্মিথ ও ব্লেয়ার টিকনার দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ইনিংসের শুরুতে অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনকে দ্রুত ফিরিয়ে ভারতকে চাপে ফেলেছিলেন মিলনে। সিরিজজুড়ে দাপট দেখানো ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আজ আটকে রাখেন মিলনে। সেডন পার্কে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ রানেই দুই ওপেনার অভিষেত শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনকে হারায় ভারত।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ইশান কিষান ও শ্রেয়াস আইয়ার জুটি গড়েন।
ইশান কিষান ২৮ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত থামতে হয় তাঁকে। বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়ার হার, আফ্রিকার জয়: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে হিসাব–নিকাশ কতটা বদলাল। সপ্তম ওভারের প্রথম বলে ৩০ রানে জীবন পান কিষান। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৮ বলে ফিফটি করেন কিষান। কিন্তু স্মিথের ‘ফ্রন্ট ফুট নো বল’ হওয়ায় ৫ রানে জীবন পান তিলক।
অন্যদিকে, শ্রেয়াস আইয়ার ২২ বলে ৫০ রানের কার্যকরী ইনিংস উপহার দেন। তবে কিষান ও শ্রেয়াসের বিদায়ের পর তিলক বর্মা, নমন ধির ও নিতিশ কুমার রেড্ডির ছোট ছোট অবদানে ভারত ১৯১ রানের সংগ্রহ পায়। কিষান এই ইনিংসের পথে এক পঞ্জিকাবর্ষে ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের রেকর্ড গড়েছেন। ২২ বলে ফিফটি করা শ্রেয়াস পরের বলেই আউট হন। নমন ধিরের ৩৩ ও নিতিশ কুমার রেড্ডির ২২ রানে ১৯১ রান পায় ভারত।
রান তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড শুরুতেই ফিন অ্যালেনকে হারালেও টিম সাইফার্ট ও ড্যারিল মিচেল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। পাওয়ার প্লেতে নিউজিল্যান্ড সংগ্রহ করে ৫৯ রান। মিচেল ২৯ রান করে বরুণ চক্রবর্তীর বলে সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ৭৩ রানের জুটি। এরপর গ্লেন ফিলিপস মাঠে নেমে সাইফার্টের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েন। রান তাড়ায় ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে জ্বলে ওঠেন টিম সাইফার্ট।
দীর্ঘদিন রানের খোঁজে থাকা টিম সাইফার্ট আজ দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। ৫০ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে তিনি ১১টি চার ও ৫টি ছক্কা হাঁকান। তবে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে নিতিশ কুমার রেড্ডির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের পর আর কোনো বাধা আসেনি নিউজিল্যান্ডের জয়ে। তবে গ্লেন ফিলিপসের আরেকটি ঝোড়ো ইনিংসে জয় পেতে সমস্যা হয়নি নিউজিল্যান্ডের। বাউন্ডারিতে তাঁর ক্যাচ দুইবারের চেষ্টায় ধরলেও ফিন অ্যালেনের পা মাটিতে লেগে যাওয়ায় সেটি ছক্কা হয়ে যায়। শ্রেয়াসের সঙ্গে তাঁর ৪৩ বলে ৯৩ রানের জুটি ভাঙে। অন্য প্রান্তে মাইকেল ব্রেসওয়েলের এক ওভারে টানা ছক্কা, চার ও ছক্কা মারেন শ্রেয়াস। এমন হারের দায় কি শুধুই নাজমুল–লিটনদের।
দলের জয়ের আসল নায়ক গ্লেন ফিলিপস। তিনি ৩৮ বলে ৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৮টি চার ও ৩টি ছক্কা। ফিলিপস পাঁচ ম্যাচের সিরিজে মোট ৩৪১ রান করে সিরিজসেরা হয়েছেন। এটি দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড। এর আগে ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৩১ রান করেছিলেন। এক সিরিজে ৩০০-এর বেশি রান আছে আর কেবল মোহাম্মদ রিজওয়ানের। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর রান ছিল ৩১৬।
শেষদিকে ফিলিপস সঙ্গী হিসেবে পান বেভন জ্যাকবসকে। তাদের অবিচ্ছিন্ন ২৭ রানের জুটিতে ফিলিপস নিজে করেন ২৬ রান। এই জয়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড তাদের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করল। উল্লেখ্য, আগামী বুধবার থেকে শুরু হবে দুই দলের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ওভারটিতে ২৭ রান তোলে ভারত।