নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জে সোমবারের শ্রমিক বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও দুপুরের পর ফের রাস্তায় নেমেছেন ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার আবির ফ্যাশন, মেট্টোসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা। শ্রমিকদের কারখানায় প্রবেশে বাধা দিয়ে ২০ থেকে ৩০ জন যুবক তাঁদের মিছিল করে শিবু মার্কেটের দিকে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শ্রমিকরা শিবু মার্কেটের দিকে আসছে এমন সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবু কাউছার আশার নেতৃত্ব বিএনপির নেতা কর্মীরা শিবু মার্কেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের কে ঢাকা-নারায়নগঞ্জ লিংক রোডে না আসার জন্য বাধা দিয়ে অনুরোধ করলে শ্রমিকরা পোস্ট অফিস রোড-কাঠেরপুলের সড়কটিতেই অবস্থান নেয়।
অপরদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে শ্রমিকদের কে নিজ নিজ স্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ করলে শ্রমিকরা উত্তিজিত হয়ে শ্লোগান দেয়। কিছুক্ষন পর শ্রমিকদের আরো দুটি গ্রুপ অবস্থানরত শ্রমিকদের সাথে যোগ দিলে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে ঢাকা-নারায়নগঞ্জ লিংক রোডে প্রবেশ করে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে শুরু করে। সময় বৃদ্ধির সাথে সাথে শ্রমিকদের ভীড় ও বাড়তে শুরু করে।
এদিকে দুপুরের পর থেকেই ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মীরা তাদের ফেসবুক ওয়ালে শ্রমিকদের বিক্ষোভ করার শুরুর ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করে লিখে “ছাত্রদল-যুবদল আছে পুলিশের সাথে” আর ছা্ত্রলীগ-যুবলীগ আছে শ্রমিকদের সাথে”।
আর এতেই প্রমাণিত হয় যে শ্রমিক আন্দোলনের পিছনে পতিত সরকারের ইন্ধন রয়েছে বলে জানায় একাধিক সূত্র।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উত্তেজনা দেখা যায়নি। যথাসময়ে শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশ করে স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করেন। দুপুরে খাবারের বিরতি শেষে শ্রমিকেরা আবার কারখানায় প্রবেশ করতে গেলে একদল যুবক তাঁদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে ওই যুবকদের সঙ্গে শ্রমিকদের একটি অংশ রাস্তায় বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আবির ফ্যাশনের এক কর্মকর্তা জানান, ২০ থেকে ৩০ জন যুবক তাঁদের শ্রমিকদের কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে না দিয়ে মিছিল করে শিবু মার্কেটের দিকে নিয়ে যায়। বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনকে খবর দেওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে এলে শ্রমিকদের রাস্তায় নামার পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
এদিকে কারা শ্রমিকদের কারখানায় প্রবেশে বাধা দিয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে তাঁদের রাস্তায় নিয়ে গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক মেহেদীর বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।