চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এ বছর উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার আরও কমেছে। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর এই হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ৩ হাজার ২০১ জন কম। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ২০১ জন। এইচএসসিতে পাসের হার ৫১.৬২%, জিপিএ-৫ ৩৫ হাজার।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক। বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবার মোট ৯৯ হাজার ৮৭৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, যার মধ্যে পাস করেছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। পাসের হার বিবেচনায় ছাত্রদের (৪৭.৬২%) চেয়ে ছাত্রীরা (৫৩.৪৯%) এগিয়ে আছেন।
বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষার্থীদের ফলাফলে দেখা যায়, সবচেয়ে ভালো ফল করেছেন চট্টগ্রাম নগরের শিক্ষার্থীরা (৬৬.২০%)। সামগ্রিকভাবে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়া কক্সবাজারে ৪৩ দশমিক ৩৪, বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২, রাঙামাটিতে ৩৩ দশমিক ২৪ এবং খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। বিভাগভিত্তিক ফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে বেশি (৭৪.৪২%), এরপর ব্যবসায় শিক্ষায় ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে ৩৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার মোট ২৮৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার কেউ পাস করতে পারেননি। উল্লেখ্য, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গত ১৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর পর ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৭২.২৯ শতাংশ। এরপর ২০২০ সালে করোনাকালে বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করলেও পরের বছরগুলোতে ফলাফল ক্রমাগত নিম্নমুখী হয়েছে। ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৮৯.৪ শতাংশ, ২০২২ সালে ৭৮.৮, ২০২৩ সালে ৭৪, ২০২৪ সালে ৭০.৪ শতাংশ এবং সবশেষ ২০২৫ সালে তা কমে ৫২.৫৭ শতাংশে নেমেছিল, যা এবার আরও হ্রাস পেল।