, ,

আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে হামলা, ড্যাব নেতার সদস্যপদ স্থগিত

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আহমেদ জাকীকে তার নিজস্ব কার্যালয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরিচালক নিজেই জানিয়েছেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বেশ কয়েকজন কর্মী দলবদ্ধভাবে তার কক্ষে প্রবেশ করে এই হামলা চালান। ঘটনার সময় অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী দাপ্তরিক বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৮-৯ জনের একটি দল কক্ষে ঢুকে তাকে চেয়ার থেকে টেনেহিঁচড়ে সরানোর চেষ্টা করে এবং গলায় ধাক্কা দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত অন্যদের হস্তক্ষেপে হামলাকারীরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। তারা তাকে চেয়ার থেকে টেনেহিঁচড়ে তুলে মারধর শুরু করেন। এ সময় ঘরে থাকা অন্য ব্যক্তিরা ডা. জাহিদ ও তার সঙ্গে আসা ব্যক্তিদের বাধা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরে অধ্যাপক জাকী আবার গিয়ে তার চেয়ারে বসেন।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে ড্যাব। অভিযুক্ত ডা. জাহিদ হাসান, যিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন, তার প্রাথমিক সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে ডা. জাহিদকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল দাবি করেছেন, অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কর্মীরা সেখানে গিয়ে থাকতে পারেন এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে ড্যাব-কর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত করলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোরও নোটিশ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি ঘটনাটি শুনেছি।

এই অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) আরিফ আহমদের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী জানিয়েছেন, তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক উভয় মাধ্যমেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন যে, আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদের বিরুদ্ধেও কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, বর্তমান সরকারের আমলে আইইডিসিআর’র সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে ডা. জাকীর দাপ্তরিক কক্ষে বৈঠক করার বিষয়টি বিতর্কিত ছিল। উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকীকে সরকার পতনের পর আইইডিসিআর’র পরিচালক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি এই হামলার মূল কারণ এবং দায়দায়িত্ব নিরূপণে কাজ করছে।