১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, সকাল ৬:৩৩

রাতে রাস্তায় কুকুরের উৎপাত

সাবিত আল হাসানঃ

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নতুন কিছু নয়। রাতের ফাঁকা রাস্তায় বেড়ে যায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত। দিনে বিচরণ কম চোখে পড়লেও সন্ধ্যের পরেই সদলবলে বিচরণ করে সর্বত্র। শহরে বিভিন্ন অলিগলি ও সড়কে কুকুরের চিৎকার আর চেঁচামেচিতে ভাঙ্গে রাতের নিস্তদ্ধতা। পাশাপাশি রাতে বাড়িফেরা মানুষরা কুকুরের ধাওয়া কিংবা হেনস্তার শিকার হন প্রায়ই। কিন্তু কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোন ভূমিকা না নেওয়ায় সমাধান আসছে না এই উপদ্রবের।

সম্প্রতি ঢাকা শহর থেকে প্রায় ৩০ হাজার কুকুর সরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এসকল কুকুর শহরের বাইরের লোকালয়ে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। তবে কুকুরগুলোকে স্থানান্তরিত করার পরও যেন নতুন স্থানে খাবারের সংকট তৈরি না হয় তার জন্য মানুষের বসবাস রয়েছে এমন কোন এলাকায় নিয়ে যাবার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে কোন কোন এলাকায় কুকুর নিয়ে যাওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এমন সিদ্ধান্তের পরিপেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকার কুকুর গুলোকেও স্থানান্তর করার দাবী উঠছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে অনেকেই বলছেন কুকুর যেহেতু মারা সম্ভব নয় যেহেতু এদের স্থানান্তর করা হোক। এতে করে নগরবাসী দীর্ঘদিনের উপদ্রব থেকে মুক্তি পাবে।

পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা অতসী হালদার জানান, এর আগে দেওভোগ এলাকায় থাকতেন তিনি। সেখানে বাসায় ফেরার পথে কুকুরের কামড়ের ভয়ে বাসা পরিবর্তন করে পাইকপাড়া এলাকায় এসেছেন। তবে এখানেও সেই একই অবস্থা।

জানা যায়, ২০১৪ সালে উচ্চ আদালত নির্বিচার কুকুর নিধনকে অমানবিক সাব্যস্ত করেন এবং তা বন্ধের নির্দেশ দেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে কুকুরকে বন্ধ্যা করে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সেই চেষ্টা চেষ্টার আন্তরিকতাও খুব একটা দৃশ্যমান হচ্ছে না। ফলে নারায়ণগঞ্জ সহ দেশের নানা স্থানে কুকুরেরা নৃশংসতার শিকার হচ্ছে।

সবশেষ ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জে কুকুরদের জলাতঙ্ক রোধী টিকা প্রদান করা হয়। এর পর কেটে গেছে ২বছর। কিন্তু সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি কাটেনি। টিকা দেবার পরেও সকল কুকুরকে সেই টিকা দেয়া হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত না হওয়ায় কুকুরের আক্রমনের শিকার হলে বাধ্যতামূলক টিকা নিতে হচ্ছে ভুক্তভোগীকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেহেতু দেশ সিটি কর্পোরেশন ধীরে ধীরে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে সেহেতু এই সিদ্ধান্তটি অমূলক নয়। বাইরের বিভিন্ন দেশে শহরে খোলামেলা ভাবে কুকুর ঘুরতে দেয়া হয় না। তাদের নির্ধারিত একটি স্থানে রাখা হয়। যেহেতু এখনও সেটি সম্ভব নয় সেহেতু স্থানান্তর করা হলেও নূন্যতম নাগরিক সেবা পাবে নগরবাসীরা।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ