১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, রাত ৮:৩৮

বন্দর খেয়া ঘাটে মাঝি সিন্ডিকেট, অসহায় যাত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটে নৌকার মাঝিদের ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় চলছে। সুযোগ বুঝে ৩০ টাকার রিজার্ভ ভাড়া ৪০-৫০ টাকা আদায় এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করার অভিযোগ উঠেছে। নদী পারাপারে বিকল্প কোন পথ না থাকায় জোঁকের মত চুষে নিচ্ছে যাত্রীদের কষ্টার্জিত অর্থ। দ্রুত ভিত্তিতে নৌকার ভাড়া নির্ধারন করারও দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

মূলত অফিস টাইমে নদী পারাপারে অধিকাংশ যাত্রীরা পাড় হন ট্রলারে। কিন্তু বয়স্ক ও নারীদের ক্ষেত্রে ট্রলারে নদী পার হতে কষ্ট হওয়ায় তারা বেছে নেন নৌকা। আর সুযোগ বুঝে মাঝিরা ভাড়া হাঁকান ইচ্ছে মত। ৩০টাকার রিজার্ভ ভাড়া বাড়িয়ে ৪০/৫০টাকা দাবী করেন। শুধু তাই নয়, ভিন্ন কোন নৌকায় উঠতে চাইলেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই মাঝিকেও জানিয়ে দেন দাবীকৃত অর্থের কম না নিতে। বাধ্য হয়েই বাড়তি ভাড়ায় নদী পাড় হন যাত্রীরা।

শুধু তাই নয়, একটি ১৫ ফুট আকারের নৌকায় যাত্রী সংখ্যা তোলা হয় ২২ থেকে ২৫ জন। যাত্রী বোঝাই ডুবু ডুবু নৌকা উত্তাল শীতলক্ষ্যায় পাড় হয় হেলে দুলে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও মাঝি তার লাভের বিকল্প একেবারেই চিন্তা করেন না। রিজার্ভ যেতে না চাইলে জনপ্রতি ৫টাকা করে ভাড়া আদায় করে প্রতিবার নদী পাড় হয়ে আদায় করে নেন ১১০ থেকে ১৩০ টাকা। লকডাউন চলাকালীন সময়েও মাঝিরা নৌকা রিজার্ভ ভাড়া ১০০ টাকা করে আদায় করেছে যা অমানবিক বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

অথচ যাত্রীরা নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে ৬/৭ জন একত্রিত হয়ে নৌকা রিজার্ভ করতে চাইলেই মাঝিরা হাঁকিয়ে বসেন ৪০/৫০ টাকা। আর সাথে যদি ভারী ব্যাগ বা বড় কিছু থাকে তবে ভাড়া দাঁড়ায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া রাতে ট্রলার বন্ধ হয়ে যাবার পর মাঝিদের দৌরাত্ম বাড়ে বহুগুণে। মাঝ রাত হওয়ায় এর প্রতিবাদ করারও সাধ্য নেই কারও। মনে মনে মাঝিদের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতি ঘৃণা জানিয়ে সরে যাওয়াকেই বেঁছে নেন যাত্রী সাধারণ। নদী পারাপারে সেবার পরিবর্তে যাত্রীদের এমন জিম্মি করে ফেলাকে অমানবিক আচরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নৌকা রিজার্ভ করতে চাইলেই মাঝিরা ভাড়া হাঁকান ইচ্ছে মত। ২ জনের বেশী যাত্রী দেখলেই ৩০টাকার রিজার্ভ ভাড়া বাড়িয়ে ৪০/৫০টাকা দাবী করেন। যাত্রীদের সাথে যদি ভারী ব্যাগ বা বড় কিছু থাকে তবে ভাড়া দাঁড়ায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এমন অবস্থায় যেসব যাত্রীরা ট্রলারে উঠতে পারেন না তারা বাড়তি ভাড়া দিয়েই নদী পাড় হন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে দিত তাহলে উপকৃত হতো শহর ও বন্দরের যাত্রীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল ঘাটের অরাজকতা ঠেকাতে প্রায়ই উদ্যোগ নেন সাংসদ সেলিম ওসমান। তিনি যদি প্রশাসনকে সাথে নিয়ে নৌকা ভাড়ার একটি তালিকা ঝুলিয়ে দেন তাহলে বন্ধ হতে পারে মাঝিদের ইচ্ছেমত ভাড়া হাকানোর সুযোগ। একই সাথে ন্যায্য ভাড়ায় উপকৃত হবে উভয় পাড়ের যাত্রীরা। 

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ