১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ৩:০৮

না.গঞ্জের রাজনীতিতে আপন পর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কিছু দিন আগেও মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আবুল কালামের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এখন একই কমিটিতে থাকলেও দু’জনের দ্বন্দ্ব চরমে। ১ম সিটি নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সহ অনেকেই ছিলেন। পরের নির্বাচনে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ওদিকটায় ঘুরেছেন।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোস্তফা সারওয়ারের প্রভাব নারায়ণগঞ্জে কমাতে দেওভোগের এক নেতার সহযোগীতা নিতে হয়েছিলো ওসমান পরিবারকে। এখন সে নেতার পরিবার ও ওসমান পরিবারের মধ্যে অনেকটা সাপ নেওলে সম্পর্ক।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যুগ যুগ ধরে এভাবেই স্থানীয় রাজনীতিতে দলের ভিতর বিভাজন চলে আসছে নেতায় নেতায়। ভিন্ন মতালম্বী বা ভিন্ন দলের নেতাদের সাথে মধুর সম্পর্ক রাখলেও নিজ দলের নেতাকে প্রতিদ্বন্দ্বি মনে করে শত্রু ভাবে অনেকে। আর এ থেকেই তৈরী হয় বিভক্তি হয় উপদল। সূত্রে মতে, চুনকা চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তা দেখে দলের আরেকটি অংশ ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ

১৯৮৪ সালের নির্বাচনে তাকে হারাতে জোট বাঁধে শহরের এক শ্রেনীর ধনী ব্যক্তি ও প্রভাবশালী এক রাজনীতিক। তারা তখনকার তুখোড় বক্তা ও ছাত্রলীগ নেতা নাজিমউদ্দিন মাহমুদকে প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে দাঁড় করেন চুনকার বিরুদ্ধে। ভোটে হারেন আলী আহাম্মদ চুনকা। তবে নাজিম উদ্দিনকে গড়তে চুনকার অবদান ছিলো সবচেয়ে বেশী। সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে ছিলেন তারা।

জেলা আওয়ামীলীগের এক প্রবীণ নেতা জানান, এরশাদ সরকারের আমলে দু’টি ও ’৯০ এর সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নাজমা রহমানের বিরুদ্ধে কাজ করেছিলো দলেরই একটি পক্ষ। তারা জাতীয় পার্টির প্রার্থী নাসিম ওসমানের পক্ষে কাজ করে দলের ভিতর লাঙ্গল মার্কা আওয়ামীলীগ তকমা পান। ওই সময়ে একটি পরিবারের অনুগত ওই ছাত্র-যুব নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ এখন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কৃষক লীগের তখনকার সিনিয়র সহ সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। তবে শেষতক তার হাতছাড়া হয়ে সেই মনোনয়ন পান শামীম ওসমান। এরপর গিয়াস উদ্দিন আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন।

আরও পড়ুনঃ

২০০১ এর নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রথমে মনোনয়ন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সফর আলী ভূইয়াকে। এরপর সিদ্ধান্ত বদল করে তা দেয়া হয় আওয়ামীলীগ ছেড়ে আসা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে। জনশ্রুতি রয়েছে তার টিকেট পাওয়ার পেছনে মোহাম্মদ আলীর অবদান থাকলেও নির্বাচিত হয়ে তাকে সামান্য স্বর্নের চেইন ছিনতাইয়ের মামলার আসামী করে গিয়াসের এক অনুসারী।

জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে শহর বিএনপির কমিটি হলে আরো একটি পাল্টা কমিটি হয়। এ কমিটির সভাপতি হন নূরুল ইসলাম সরদার, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউছুফ টিপু। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, পাল্টা বা বিদ্রোহী এ কমিটির মাথায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামের হাত ছিলো। ওই সময়ে এক কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে আরেক কমিটির নেতারা প্রকাশ্যে বলতেন। দুই পক্ষের মধ্যে শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় সংঘর্ষও হয়েছিলো।

বর্তমানে সেই বিদ্রোহী কমিটির আশ্রয়দাতা আবুল কালাম মহানগর বিএনপির সভাপতি আর তখনকার মূল কমিটির এটিএম কামাল হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক। এখন কালাম-কামাল মিল থাকলেও সাখাওয়াত পরিচিতি পেয়েছেন কালাম বিরোধী হিসেবে।

এক সময়ে বাকশাল ছাত্রলীগ করলেও খোকন সাহা ও আনিসুর রহমান দিপু পরবর্তিতে শামীম ওসমান বলয়ের লোক হিসেবে চিহ্নিত হন। তবে দিপুর সাথে ওসমান পরিবারের সম্পর্ক চিড় ধরেছে বলেছে শোনা যায়। মাঝে খোকন সাহার বিষয়েও একই রকম কথা উঠেছিলো। পরে তা আবার মিটমাট হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বড় দু’টি দলের স্থানীয় কমিটিতে একাধিক বলয় রয়েছে। কে কার বলয়ের তাও স্পষ্ট। তবে কে কখন কোন বলয় ছাড়ে আর কোন বলয়ে যায় তা আগে বুঝা যায় না। তাদের মতে, কোন আদর্শগত কারনে নয় কিংবা দেশের কোন স্বার্থে নয় বলয় গড়ে উঠে নিজের স্বার্থে। পদ ও সুবিধা নিতেই বলয়ে যায় কতিপয় রাজনীতিক।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ