, ,

সেন্ট মার্টিনে ১ নভেম্বর থেকে রাতে থাকা যাবে পর্যটকদের

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ ও সেখানে রাত যাপন নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি অবশেষে দূর হয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা আগের মতোই দ্বীপে যাতায়াত এবং রাত যাপন করতে পারবেন। আজ ২৭ অক্টোবর আন্তমন্ত্রণালয় সভার আগের সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান জানান, নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে দ্বীপে থাকা নিয়ে যে অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছিল, তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন থেকে পুরো নির্ধারিত সময়েই পর্যটকেরা নিশ্চিন্তে দ্বীপে অবস্থান করতে পারবেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ থাকবে।

গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সেন্ট মার্টিনে পর্যটন নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সভার পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে গত ২২ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিধিনিষেধ বহাল থাকায় পর্যটক, জাহাজমালিক ও হোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নতুন করে এই সংশোধনী আনা হলো। এতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছিল।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দৈনিক পর্যটক সমাগমের সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিটি পর্যটককে ভ্রমণের সময় ১০০ টাকা হারে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি প্রদান করতে হবে।

আগের মতোই কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়ায় বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজ চলাচল করবে এবং পর্যটকদের বাধ্যতামূলকভাবে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে হবে। এ বিষয়ে কারিগরি প্রস্তুতি চলমান রয়েছে বলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে এবার পর্যটকদের যাতায়াতের সময়সীমা বাড়লেও রাতযাপনের ক্ষেত্রে গত বছরের নিয়মই বহাল থাকছে বলে ধারণা তৈরি হয়।

দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষায় বাধ্যতামূলক বিধিনিষেধ

  • সমুদ্রসৈকত ও তৎসংলগ্ন এলাকায় রাতে কোনো ধরনের আলো জ্বালানো নিষিদ্ধ।
  • সৈকতে উচ্চশব্দ তৈরি বা বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা সম্পূর্ণ বারণ।
  • কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ, ক্রয় বা বিক্রয় করা যাবে না।
  • সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া ও শৈবালের মতো জীববৈচিত্র্যের কোনো ক্ষতি করা যাবে না।
  • সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যান্ত্রিক যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • গত বছরের প্রজ্ঞাপনে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। সেগুলো হলো।
  • এশিয়ার সেরা ২০ সমুদ্রসৈকতের তালিকায় কক্সবাজার কি আছে।