, ,

বিদ্ধ ডকুমেন্টারি: টাইসনের নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগ মামলা নিয়ে নতুন বিতর্ক

বক্সিং রিংয়ে প্রতিপক্ষকে মুহূর্তেই ধরাশায়ী করতেন তিনি। একসময় বিশ্বজুড়ে তাঁকে বলা হতো ‘দ্য ব্যাডেস্ট ম্যান অন দ্য প্লানেট’। মাত্র ২০ বছর বয়সে হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন মাইক টাইসন। কিন্তু এই অসাধারণ ক্রীড়া সাফল্যের আড়ালেই রয়েছে তাঁর কারাবাস, ধর্ষণ মামলায় দণ্ড, চরম মাদকাসক্তি, তীব্র দাম্পত্য কলহ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডির ইতিহাস। খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর বিশ্বব্যাপী পরিচিতি ছাড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয় সংস্কৃতিরও অন্যতম বহুল আলোচিত চরিত্র। মাইক টাইসনের এই জীবনের নানা চড়াই-উতরাই ও বিতর্ক নিয়ে মুক্তি পেয়েছে চার পর্বের প্রামাণ্যচিত্র ‘টাইসন’। তবে মুক্তির পর থেকেই এটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরির পাশাপাশি তীব্র বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। নির্মাতারাও শুরু থেকেই চেয়েছেন, খেলাধুলার গণ্ডি ছাড়িয়ে একজন মানুষের জীবন, খ্যাতি, ক্ষমতা, অপরাধবোধ ও আত্মপরিচয়ের সংকটকে সামনে আনতে। ঘটনাটি বক্সিং ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিস্ময়কর মুহূর্ত। ২০০৮ সালে তাঁর জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছিল ‘টাইসন’ নামের আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র। কিন্তু এ বয়সে এসে তিনি যেভাবে নিজের অতীত নিয়ে ভাবছেন, সেটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারে। এতে দর্শক একই ঘটনা সম্পর্কে তরুণ টাইসন কী বলেছিলেন এবং এখন বয়সের ভারে অভিজ্ঞ একজন মানুষ হিসেবে কীভাবে সেটি দেখছেন, তা তুলনা করতে পারবেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাঁর নিজের মুখে অতীতের গল্প শোনার সুযোগ। বরং নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ বেশি পেয়েছেন টাইসন। ‘দ্য গার্ডিয়ান’–এর আরেক সমালোচক অ্যান্ড্রু লরেন্সও সিরিজটিকে অসম্পূর্ণ প্রতিকৃতি হিসেবে দেখেছেন।

নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া এই সিরিজে টাইসনের জীবন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দর্শকদের একটি অংশের মতে, জীবনের নানা অন্ধকার ও উত্থান-পতন নিয়ে টাইসনের এমন অকপট ও খোলামেলা স্বীকারোক্তি আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে অন্যদিকে তীব্র অভিযোগ উঠেছে, প্রামাণ্যচিত্রটি সাবেক এই হেভিওয়েট বক্সারকে তাঁর নিজস্ব অপরাধ ও গুরুতর বিতর্কের দায় থেকে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন অপরাধের বিষয়গুলোকে সঠিকভাবে মূল্যায়িত করা হয়নি বলে দাবি করছেন অনেক সমালোচক। নতুন সিরিজেও তাঁর এই স্বভাব দেখা গেছে।

নেটফ্লিক্সে দুর্দান্ত গতি ও বিপুল দর্শকপ্রিয়তা

গত ১৩ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় চার পর্বের এই প্রামাণ্য সিরিজ ‘টাইসন’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভাষার বৈশ্বিক টিভি সিরিজের শীর্ষ তালিকায় চার নম্বর স্থানটি দখল করে নেয় এটি। প্রথম সপ্তাহ অর্থাৎ ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র সাত দিনে বিশ্বজুড়ে সিরিজটি দেখার সংখ্যা বা ভিউ দাঁড়ায় ৫১ লাখ। এর পরের সপ্তাহেও দর্শক টানার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। সিরিজের পরের পর্বগুলোয় এসব ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখানো হয়েছে। সিরিজের শেষাংশের এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়েছে।

১৯ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রামাণ্যচিত্রটি আরও ৩৮ লাখ ভিউ অর্জন করে। ফলে নেটফ্লিক্সে প্রচারের প্রথম দুই সপ্তাহেই সিরিজটির মোট ভিউ দাঁড়ায় ৮৯ লাখে। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হওয়ায় নেটফ্লিক্সের পরবর্তী সাপ্তাহিক শীর্ষ তালিকার অন্যতম জনপ্রিয় ও সংবাদের শিরোনাম হওয়া সিরিজ হিসেবেও নিজের অবস্থান শক্তভাবে ধরে রেখেছে ‘টাইসন’। সিরিজটির নির্বাহী প্রযোজকদের মধ্যে রয়েছেন বিল সিমন্স ও জিম গ্রে।

রিংয়ের ভয়ংকর মানুষটির শৈশব, অপরাধ ও উত্থানের ইতিহাস

বক্সিং রিং কাঁপানো এই খেলোয়াড়ের শৈশব ছিল তীব্র কষ্ট ও ট্র্যাজেডিতে ভরা। ১৯৬৬ সালের ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের অত্যন্ত দুর্ধর্ষ এলাকা ব্রাউনসভিলে জন্ম নেন মাইক টাইসন। চরম দারিদ্র্য, পারিবারিক তীব্র অস্থিরতা, চারপাশের অপরাধপ্রবণ পরিবেশ এবং দৈনন্দিন সহিংসতার মধ্য দিয়েই কেটেছে তাঁর শৈশবের দিনগুলো। ছোটবেলায় তাঁকে সহপাঠী ও এলাকার মানুষের কাছ থেকে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে।

এই সহিংসতার শিকার হতে হতে কৈশোরেই তিনি নিজে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। অপরাধের পথ বেছে নেওয়ার কারণে মাত্র ১৩ বছর বয়সের আগেই একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল এই কিশোরকে। চরম অন্ধকার ও অপরাধের দিকে ধাবমান তাঁর জীবনের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন কিংবদন্তি বক্সিং প্রশিক্ষক কাস ডি’আমাতো। টাইসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অসাধারণ বক্সিং প্রতিভা চিনতে মোটেও ভুল করেননি কাস। তিনি নিজের তত্ত্বাবধানে রেখে টাইসনকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও বক্সিংয়ের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। শুধু রিঙে একজন ক্ষুরধার খেলোয়াড় তৈরি করাই নয়, টাইসনের জীবনের নানা জটিল মোড়েও অভিভাবক হিসেবে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন এই মাস্টার মেন্টর। একসময় যাঁর নাম শুনলেই প্রতিপক্ষের মধ্যে ভীতি তৈরি হতো, সেই টাইসনই ধীরে ধীরে নিজের আচরণ ও সিদ্ধান্তের কারণে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন।

এরপর ১৯৮৫ সালে পেশাদার বক্সিংয়ের রঙিন দুনিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক ঘটে মাইক টাইসনের। অভিষেকের পর থেকেই অবিশ্বাস্য দ্রুততায় সাফল্যের শীর্ষে উঠতে থাকেন তিনি। রিংয়ে একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিধ্বংসী নকআউট করে পুরো বিশ্বের নজর কাড়েন টাইসন। ১৯৮৬ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে ট্রেভর বারবিককে সরাসরি পরাজিত করে সর্বকনিষ্ঠ হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেন তিনি। এরপর ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বক্সিং জগতে একক আধিপত্য বজায় রেখে অবিসংবাদিত হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজের সাম্রাজ্য ধরে রাখেন। এরপর ১৯৯৭ সালে ইভান্ডার হলিফিল্ডের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের কানে কামড় বসিয়ে দেন তিনি। ২০১২ সালে স্পাইক লির পরিচালনায় ব্রডওয়েতে একক মঞ্চ পরিবেশনাও করেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের বিপর্যয়, কারাবাস ও ট্র্যাজেডি

তবে রিংয়ের ভেতরের বিপুল সাফল্য বজায় থাকলেও টাইসনের ব্যক্তিগত জীবন ক্রমেই চরম বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসের দিকে যেতে থাকে। বিশিষ্ট অভিনেত্রী রবিন গিভেন্সের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিবাহবিচ্ছেদ, তীব্র দাম্পত্য কলহ, আইনি জটিলতা, কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক সংকট এবং ভয়াবহ মাদকাসক্তি—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ১৯৯০ সালে বস্টার ডগলাসের কাছে রিংয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে গিয়ে নিজের হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের সোনার মুকুট হারান তিনি।

এর পরপরই তাঁর জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় আইনি ও সামাজিক বিপর্যয়। ১৯৯২ সালে একটি গুরুতর ধর্ষণ মামলায় আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হন মাইক টাইসন। বিচারে তাঁকে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তিন বছরেরও বেশি সময় কারাগারের চার দেয়ালের পেছনে কাটাতে হয়। যদিও টাইসন শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন, তবে পরের বছরগুলোতেও বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি। ১৯৯০-এর দশকের পর ২০০৯ সালে তাঁর জীবনে ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক ট্র্যাজেডি; মাত্র চার বছর বয়সী নিজের কন্যাসন্তানকে হারান তিনি। প্রামাণ্যচিত্রের পরের পর্বগুলোতে অর্থ ও খ্যাতির বিশাল উত্থান-পতন, অ্যালকোহল ও মাদকের মারাত্মক দাসত্ব এবং সেখান থেকে পুনরায় নিজের জীবনকে গুছিয়ে নেওয়ার অদম্য চেষ্টার গল্পগুলো বিষাদময়ভাবে ফুটে উঠেছে। ২০০৯ সালে চার বছর বয়সী মেয়ে এক্সোডাসের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি। তাঁর জীবনে অর্থের উত্থান-পতন, মাদক ও অ্যালকোহলে আসক্তি, সম্পর্কের ভাঙন এবং পুনরায় নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা উঠে এসেছে। ১৯৯১ সালে তিনি টাইসনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।

যেভাবে নির্মিত হলো ‘টাইসন’ প্রামাণ্যচিত্র

চার পর্বের এই সাড়াজাগানো সিরিজটি পরিচালনা করেছেন বিখ্যাত নির্মাতা ফ্লয়েড রাস। তিনি এর আগে ‘আনটোল্ড: ম্যালিস অ্যাট দ্য প্যালেস’ এবং ‘আমেরিকান ম্যানহান্ট: দ্য বোস্টন ম্যারাথন বম্বিং’-এর মতো তুমুল প্রশংসিত প্রামাণ্যচিত্রের নির্দেশনা দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন। প্রযোজক হিসেবে ছিলেন জেনা মিলম্যান, জ্যাকব মিলার ও অ্যালেক্সা গিন্সবার্গ। আর নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্বে ছিলেন আমান্ডা স্পেন, ইয়োনা ম্যাকলাফলিন, গ্রেগ সি লেক, মাইকেল হিউজ ও ডগলাস ব্যাংকার। পুরোনো ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের জন্য চারজন আর্কাইভ প্রযোজক টানা ১৬ মাস কাজ করেছেন। সাক্ষাৎকারে রাগ, আবেগ, অনুশোচনা কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থন—সবই প্রকাশ করেছেন।

নির্মাতা ফ্লয়েড রাস জানান, তিনি টাইসনের বহুল পরিচিত কেবল চর্বিতচর্বণ গল্প বলতে চাননি। ৮ থেকে ১২ মাসের সময়কালে টাইসনের অন্তত আটটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ব্রাউনসভিল, পুরোনো জিম, লাস ভেগাস ও ফ্লোরিডায় টাইসনের বিভিন্ন অবস্থানে শুটিং করা হয়। সিরিজের শেষ পর্বে একটি বিশেষ চমক ছিল, যেখানে পরিচালক ও টাইসন দুজনেই সাইকেডেলিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। টাইসনের দাবি, ‘টোড’ নামের এই বিশেষ সাইকেডেলিক চর্চায় অংশগ্রহণ করেই তিনি দীর্ঘদিনের কঠিন মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। নির্মাতা জানান, ৮ থেকে ১২ মাসের মধ্যে টাইসনের সঙ্গে প্রায় আটবার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তাঁরা। তাঁর দাবি, এই অভিজ্ঞতার পর তিনি কোকেন ও মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছেন।

সমালোচকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

সিরিজটি সাধারণ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সমালোচকদের মতামত ছিল অত্যন্ত দ্বিমুখী। রিভিউ সংকলনকারী প্ল্যাটফর্ম রটেন টমেটোজে সাতজন বিশিষ্ট সমালোচকের পর্যালোচনার ভিত্তিতে এটি ৮৬ শতাংশ রেটিং অর্জন করে। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’–এর সমালোচক বেনজি উইলসন এটিকে ৪-এর মধ্যে ৪ তারকা দিয়ে টাইসনের ব্যক্তিত্বকে চমৎকারভাবে উপস্থাপনের প্রশংসা করেন। একইভাবে ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’–এর ড্যানিয়েল ফিয়েনবার্গ পর্দায় টাইসনের আবেগ ও অস্থির ব্যক্তিত্বকে দারুণ আকর্ষণীয় বলে মন্তব্য করেন।

তবে প্রামাণ্যচিত্রটির চরম সমালোচনা করেছেন নামীদামী বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিচারকেরা। ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’–এর সমালোচক হান্না জে ডেভিস সিরিজটিকে চার তারকার মধ্যে মাত্র ১ তারকা দিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। তাঁর প্রধান অভিযোগ ছিল, প্রামাণ্যচিত্রটিতে টাইসনের জীবনের অন্ধকার অপরাধমূলক অধ্যায়গুলো নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাবদিহিতা তৈরি করা হয়নি। উল্টো এতে ভুক্তভোগীদের কণ্ঠকে পুরোপুরি চেপে যাওয়া হয়েছে।

‘দ্য গার্ডিয়ান’ ও অন্যান্য সমালোচকদের স্পষ্ট অভিযোগ, প্রামাণ্যচিত্রে টাইসনের ঘনিষ্ঠজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বক্তব্যকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব নারী তাঁর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের জীবনের ভয়াবহ ও করুণ অভিজ্ঞতার বিষয়টি প্রামাণ্যচিত্রে ন্যূনতম গুরুত্বও পায়নি। বিশেষ করে ধর্ষণের মতো মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর অনুগামীদের একপাক্ষিক মন্তব্য প্রকাশ করায় পুরো প্রামাণ্যচিত্রটির সাংবাদিকতাগত নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা বড় ধরনের বড় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তা সত্ত্বেও ২০২৪ সালে ইউটিউবার ও বক্সার জেক পলের সঙ্গে ৬০ বছর বয়সী টাইসনের রিংয়ে নতুন লড়াই তাঁকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আবার মূল আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। টাইসনের শৈশবের দুর্দশা, অপরাধজগৎ থেকে বক্সিংয়ে আসা এবং কাস ডি’আমাতোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তাঁকে খেলার বাইরে থাকতে হয়, জরিমানাও গুনতে হয়।