, ,

পানি না দিলে ভারতকে ট্রানজিট-করিডোর সুবিধা নয়: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশের নদ-নদীতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভারতকে কোনো ধরনের ট্রানজিট বা করিডোর সুবিধা দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আমরা চাই, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালিত হোক।

তিনি স্পষ্ট করেছেন, নদীতে পানি না এলে কোনো ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে না এবং ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকেও সম্প্রচারের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) আয়োজিত জাতীয় যুবশক্তির এক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যে বড় ধরনের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংস্কারের প্রত্যাশায় গঠিত ঐকমত্য কমিশন, জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায়ের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার মতে, নির্বাচনের পর সরকার জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজপথের লড়াই এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। সংস্কারের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরে দেখলাম সরকার সবকিছুকে অস্বীকার করল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজপথে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গণভোটে ভোট দিয়ে জনগণ তাদের মতামত জানিয়েছে। যারা আপনার সমস্যা তৈরি করবে, তারা আপনার আশপাশেই রয়েছে।

সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার এখন নতুন কমিটি গঠন করে বিরোধী দলকে আলোচনার ডাকছে, তবে এই প্রক্রিয়ায় এনসিপি কোনো মতামত দেবে না। তিনি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী দ্রুত সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংস্কার ইস্যুতে সরকারের টালবাহানা চললে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীতে ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের মতো আবারও সরকার আগামী নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বসানোর ছক আঁকছে। সালাউদ্দিন সাহেবের কোনো কমিটিতে বিরোধী দল যাবে না। সংস্কার প্রশ্নে সরকারের টালবাহানার পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে— এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সরকার আবারও একই ধরনের চেষ্টা করছে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও গত আট মাসে তরুণদের কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও ঋণ সহায়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের যে সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে, তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিরোধী। পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগে চাপের অভিযোগ তুলে তিনি বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে জাপানের সঙ্গে সরকারের আলোচনা ও চুক্তির বিষয়টি জনগণের সামনে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি। তরুণদের জন্য ঋণ, প্রশিক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বলপ্রয়োগ না করে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে হবে। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি মূল্যের উর্ধ্বগতির দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক মামলাগুলোকে হয়রানির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে এনসিপি সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগের মিছিল, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো ঘটনা ঘটলেও সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের কাছে তথ্য থাকলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সক্ষমতার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনগণ যে স্বপ্ন নিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে, তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সতর্ক করে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গোখরা সাপ, তাই সতর্ক থাকতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ে থাকা আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তাদের বিষয়ে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান এবং গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য যাচাইয়ের পরামর্শ দেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল। আপনার মন্ত্রণালয়ে অনেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন। আপনার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যও আরেকবার যাচাই করুন। কারণ, আপনি বাতির নিচের অন্ধকার দেখতে পান না।