, ,

নেপালের: পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য মাথাপিছু ৩১ লাখ টাকা করে চাইছে পিসিবি

আজ সোমবার থেকে শুরু হওয়া নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) অংশ নিতে যাওয়া ছয় পাকিস্তানি ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদানের শর্ত হিসেবে মাথাপিছু ২৫ হাজার মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১ লাখ টাকা করে দাবি করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অথচ টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়া পাকিস্তানের ছয় ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দাবি করা অর্থ না দিলে অনাপত্তিপত্র বাতিলের হুমকিও নাকি দিয়েছে পিসিবি। শাদাবের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য জয়, শেষ জুটিতে রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার পর ইংল্যান্ডকেও গুঁড়িয়ে দিলেন, পাকিস্তানের নতুন রত্ন কে এই আরাফাত মিনহাস।

সূত্রমতে, যারা এরই মধ্যে নেপালে পৌঁছে গেছেন, তাদেরও এনওসি আটকে রাখা হয়েছে। পিসিবি থেকে এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, দাবি করা অর্থ পরিশোধ না করলে ছাড়পত্র বাতিল করা হবে। যদিও এই অর্থের দাবির বিষয়ে পিসিবির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বার্তা বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পিসিবির মন্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া মেলেনি। এমনকি অর্থের দাবিই ছাড়পত্র আটকে রাখার মূল কারণ কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে পিসিবির বক্তব্য জানতে চেয়েছিল ক্রিকইনফো।

এনপিএলের তৃতীয় আসরের জন্য ছয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

তাদের মধ্যে চিতওয়ান রাইনোসে হাসান আলী ও উসামা মীর, জানাকপুর বোল্টসে ইফতিখার আহমেদ, কারনালি ইয়াকসে সাহিবজাদা ফারহান ও হুসেইন তালাত এবং সুদূরপশ্চিম রয়্যালসে হায়দার আলী রয়েছেন। অথচ তাদের কারও আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে এনপিএলের কোনো সংঘর্ষ নেই, যা এই জটিলতাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। ১৬ অক্টোবর আইসিসি থেকে টুর্নামেন্টটির অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও ক্রিকেটারদের ছাড়পত্র নিয়ে পিসিবির এমন নীতি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে বিপাকে ফেলেছে।

পিসিবির বিরুদ্ধে এমন অর্থ দাবির অভিযোগ নতুন নয়। গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। সে সময় বিষয়টিকে অনেকে ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বড় অভিযোগ ছিল, চুক্তির সময় পিসিবি এই বাড়তি খরচের কথা জানায়নি। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে অর্থ চাওয়া হয়েছে, যখন কোনো দলের পক্ষেই আর নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ থাকে না। একটি সূত্র তো বিষয়টিকে ‘চাঁদাবাজি’ বলেও আখ্যা দিয়েছিল। সেবার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আপত্তি শুধু অর্থের পরিমাণ নিয়ে ছিল না। তত দিনে দলগুলোর স্কোয়াড চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় বিকল্প ক্রিকেটার নেওয়ার সুযোগও ছিল না।

এমনকি অর্থ দেওয়ার পরও ছাড়পত্র পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না বলে অভিযোগ মালিকদের। এক ক্ষেত্রে পিসিবি ভুলবশত কম টাকা নেওয়ার অভিযোগে ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে পুনরায় অর্থ দাবি করে বসেছিল। যদিও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি অতীতে দাবি করেছিলেন যে, এনওসি বাবদ এই অর্থ বোর্ডের বৈধ আয়ের একটি উৎস। তবে এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এমএলসির বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি পরবর্তীতে আর পিসিবির খেলোয়াড়দের দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রে অদ্ভুত ঘটনাও ঘটেছিল। তিন ক্রিকেটারের ছাড়পত্রের জন্য অর্থ নেওয়ার পর পিসিবি বুঝতে পারে, তারা একজনের অর্থ কম নিয়েছে।