বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আধুনিক ইসরাইলের রাজনীতির অন্যতম প্রধান ও বিতর্কিত মুখ। ৭৭ বছর বয়সী এই নেতা ২০২৩ সাল থেকে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান ইসরাইলি যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি নিজের বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির মামলার আইনি লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব সংকট সত্ত্বেও তিনি নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। লিকুদ পার্টির এই নেতা ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকার রেকর্ড গড়েছেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় ১৯ বছর দেশটির রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ
- জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত: ১৯৮২ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসে উপপ্রধান হিসেবে যোগ দেন তিনি। এরপর ১৯৮৪ সালে তাকে জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব: ১৯৮৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইয়িৎসহাক শামিরের মন্ত্রিসভায় তিনি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হন।
- লিকুদ পার্টির চেয়ারম্যান: ১৯৯৩ সালে ডানপন্থী লিকুদ পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন নেতানিয়াহু। ১৯৯২ সালের নির্বাচনী পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে দলটিকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরানোর পেছনে তিনি প্রধান ভূমিকা রাখেন।
- প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী: ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি এবং ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন।
- দীর্ঘতম মেয়াদে ক্ষমতায়: ২০০৯ সালে তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন। এরপর টানা ১২ বছর অর্থাৎ ২০২১ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্ষমতায় থেকে তিনি ইসরাইলের ইতিহাসের দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করেন।
- ষষ্ঠবারের মতো প্রত্যাবর্তন: ২০২২ সালে ষষ্ঠবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে গঠিত এই মন্ত্রিসভাকে ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে ডানপন্থী সরকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং বারবার ক্ষমতায় ফেরার সক্ষমতা থাকলেও, নেতানিয়াহুর বর্তমান রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দুর্নীতির বিচারিক প্রক্রিয়া, গাজা যুদ্ধের তীব্র বিতর্ক এবং তার সরকারের বিতর্কিত নিরাপত্তা ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো জনমনে গভীর সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নতুন নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ জয় করে তিনি আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন কি না, সেটিই ইসরাইলের বর্তমান রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।