সংবাদচর্চা রিপোর্ট:
নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১হাজার ২৬ জনে দাড়িয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৪৭ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৮ জন। আইসোলেশনে রয়েছেন ১৬ জন।হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৮৫ জন। কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়প্রাপ্ত ৬৫১ জন। ১ মার্চ থেকে অদ্যাবধি বিদেশ ফেরত ৬১০০ জন। বিদেশ ফেরতদের মধ্যে ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত ১২৯০ জন। ৩ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।
জেলা করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র ০৩ টি, কোভিড-১৯ এর জন্য প্রস্তুতকৃত বেড ৩০ টি, ডাক্তারের সংখ্যা ৯০ জন, নার্সের সংখ্যা ১৭৩ জন, এম্বুল্যান্সের সংখ্যা ০৬ টি, বেসরকারী চিকিৎসা কেন্দ্র ৭২ টি, কোভিড-১৯ এর জন্য প্রস্তুতকৃত বেড ৭২ টি, ডাক্তারের সংখ্যা ১০০ জন, নার্সের সংখ্যা ১৮০ জন। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রি (পিপিই) এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ২,০০৫ টি, অদ্য মজুদ রয়েছে ২১০০ টি।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তার অংশ হিসেবে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলাসমূহে উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ তাদের স্ব-স্ব এলাকায় সরকারিভাবে প্রাপ্ত এবং স্থানীয় উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত এ পর্যন্ত মোট ৯৭,০০,০০০/- (সাতাশি লক্ষ) টাকা ও ২৩০০ মেট্রিক টন চাল ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনসহ উপজেলা পর্যায়ে বিতরণের জন্য উপ বরাদ্দ প্রেরণ করা হয়েছে এবং প্রায় ২,৩০,০০০ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শিশু খাদ্যের জন্য এ জেলায় ৮,০০,০০০/- (আট লক্ষ) টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে যা সিটি কর্পোরেশন এলাকাসহ সকল উপজেলায় উপ বরাদ্দ প্রদান করার কাজ চলমান। বেসরকারী উদ্যোগে প্রাপ্ত মানবিক সহায়তার মধ্যে ৪৮০০ প্যাকেট খাদ্য সহায়তা এবং ৪১,০০,০০০/- (এক চল্লিশ লক্ষ) টাকা চেকের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে ৪৫৪২ প্যাকেট খাবার ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। কোন উপকার ভোগী যেন বাদ না পড়ে এবং দ্বৈততা পরিহারের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার মানবিক কাজে উদ্যোগী বিত্তশালী ব্যক্তি/সংগঠন/এনজিও কোন খাদ্য সহায়তা প্রদান করলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ২০ নং নির্দেশনা অনুযায়ী আবশ্যিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নেয়ার জন্য পুনরায় অনুরোধ করা হলো। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সবধরণের জনসমাগম, জটলা পরিহার করার জন্য এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এদিকে গত ৩০ এপ্রিল জেলার ত্রাণ সমন্বয়ক রেক্টর সচিব (লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ) মো: রকিব হোসেন স্বশরীরে জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ এর সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত হয়ে জেলা করোনা প্রতিরোধ ও নির্মুল কমিটি, মানবিক সহায়তা কমিটি এবং জেলা কোর কমিটির সদস্যদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের (জুম) মাধ্যমে এক জরুরী সভায় যোগদান করেন । সভায় পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, জন প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই অংশ গ্রহণ করেন। তিনি বলেন দায়িত্ব পাওয়ার পর জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাগণের সাথে যোগাযোগ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কভিড-১৯ এর হটস্পট হিসেবে নারায়ণগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সক্রিয় ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে কাজ করতে হবে। দ্রুত পিসিআর ল্যাব স্থাপন কাযক্রম সম্পন্ন করে পরীক্ষা শুরু করতে হবে। সিভিল সার্জন, নারায়ণগঞ্জকে মন্ত্রণালয়ে দ্রুত পত্র প্রেরণ করে তার অনুলিপি জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জকে দিতে নির্দেশ প্রদান করেন। এ বিষয়ে কোন গাফিলতি/অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। নমুনা সংগ্রহের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। খাদ্য গুদামের মজুদের সঠিকতা রক্ষা করতে হবে এবং খাদ্যশস্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণককে অনুরোধ করেন। স্ব স্ব অবস্থান থেকে সার্বিকভাবে সকল কিছু মনিটরিং করতে হবে। তিনি করোনা মোকাবেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নারায়ণগঞ্জ সদর ও আড়াইহাজার এর কাযক্রমের প্রশংসা করেন।
সভায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ জনিত নারায়ণগঞ্জ জেলার বর্তমান পরিস্থিতি, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সকল দপ্তরের গৃহীত কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কার্যক্রমসহ সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। সভায় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে চ্যালেঞ্জসমুহ তুলে ধরে তা দূরীকরণে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।