রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন। করোনা মহামারিতে ২০২০ সালে অটোপাশের পর এটিই এই বোর্ডের সর্বনিম্ন পাশের হার। এ বছর বিভাগের ৮টি জেলার মোট ৭৪৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাশের হার বেশি। ছেলেদের পাশের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ হলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে; মোট ৪ হাজার ৫২০ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৫৫৫ জন মেয়ে এবং ১ হাজার ৯৬৫ জন ছেলে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অনিয়মের দায়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিভাগের আট জেলায় মাত্র ৯টি কলেজ শতভাগ পাশের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। বিপরীতে ৩৯টি কলেজের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। বিগত বছরগুলোর ফলাফলের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ২০২১ সালে ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এ বছর ফলাফলের এমন পরিস্থিতির বিষয়ে অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, শিক্ষার্থীরা খাতায় যা লিখেছে তার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়ার সুযোগ ছিল না। আর ৩৯টি কলেজের কেউ পাশই করেনি।