, ,

বাপেক্স |: উখিয়ায় নলকূপে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের আগুন জ্বলবে আরো ৭ দিন

কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি গভীর নলকূপের পাইপ দিয়ে ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে ভয়াবহ আগুন জ্বলছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ভাষ্যমতে, এই আগুন আগামী সাত দিন পর্যন্ত জ্বলতে পারে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম এই তথ্য জানান। তবে ভূগর্ভ থেকে অব্যাহতভাবে গ্যাস নির্গত হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না তারা।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এখনই আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের চাপে অন্য কোনো এলাকা দিয়ে গ্যাস বের হয়ে সেখানেও আগুন জ্বলে উঠতে পারে। তাই নিরাপত্তার খাতিরে আগুন জ্বলতে দেওয়া এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই এখন প্রধান কৌশল। এই সাত দিন এলাকাটি নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবে বলে বাপেক্স জানিয়েছে। তাই আপাতত আগুনটি এভাবেই জ্বলতে দিয়ে আরো এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

বাপেক্স কর্মকর্তা এস এম নাফিফুন আরহাম বলেন, আগুনের তীব্রতা দেখে মনে হচ্ছে ভূগর্ভে গ্যাসের মজুত থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগুনের উৎসের চারপাশের ২০০ মিটারের মধ্যে বসবাসরত বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুরো এলাকাটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ বা উৎসুক জনতা সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। এ কারণে আগুনের উৎপত্তিস্থলের চারপাশের ২০০ মিটারের মধ্যে থাকা মানুষ ও ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এলাকাটি নিরাপদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আগের অভিজ্ঞতার আলোকে আগুনের শিখা ও এর তীব্রতা দেখে এখানে গ্যাসের উপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা বলে মনে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ইনানী ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গত তিন দিন ধরে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। প্রায় এক হাজার ফুট খননের পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। তখন থেকে অগ্নিকাণ্ডটি অব্যাহত রয়েছে। তবে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।’।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস নির্গত হওয়ায় পানি ছিটিয়েও আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফায়ার টিমের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিয়মিত কাজ করছেন। বাপেক্সের কারিগরি দলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।