, ,

পিএইচপিতে মারাত্মক ত্রুটি, ঝুঁকির মুখে বিশ্বের ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট

বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট তৈরির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর বা পিএইচপিতে দুটি ভয়াবহ নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হ্যাড্রিয়ান এই ত্রুটিগুলোকে ‘পিএইচপি২শেল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ১৯৯৪ সালে রাসমুস লারড্রফের উদ্ভাবিত এবং ১৯৯৫ সালে বাজারে আসা এই স্ক্রিপ্টিং ভাষাটি বর্তমানে ইন্টারনেটের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওয়ার্ডপ্রেসের মতো কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসহ ফেসবুক ও উইকিপিডিয়ার মতো বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট এই পিএইচপির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। সাইবার নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান হ্যাড্রিয়ান একে ‘পিএইচপি২শেল’ নাম দিয়েছে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত একটি সার্ভার-সাইড স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ।

পিএইচপি কোড রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অলাভজনক সংস্থা পিএইচপি ফাউন্ডেশনের ভাষ্যমতে, এই দুর্বলতাগুলো মূলত কোডের মেমোরি ব্যবস্থাপনা এবং ত্রুটি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার গভীরে লুকিয়ে আছে, যা যেকোনো ওয়েব অনুরোধ প্রক্রিয়াকরণের মূল স্তম্ভ। ত্রুটিটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা মেমোরির তথ্য বিকৃত করে সার্ভারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) সতর্ক করে বলেছে যে, এর মাধ্যমে ডেটাবেজ ও ফাইলে সরাসরি প্রবেশ করে অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য চুরি করা সম্ভব। উইকিপিডিয়া ও ফেসবুকের মতো শীর্ষ ওয়েবসাইটগুলোও পিএইচপি ব্যবহার করে থাকে।

এআই-ভিত্তিক কোড অডিট এবং গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই ত্রুটিগুলো সামনে আসে। তবে প্যাচ বা সমাধান প্রকাশের আগেই এই সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। বিষয়টি টের পেয়ে যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র (এনসিএসসি) বিভিন্ন সংস্থাকে ৫০ হাজারের বেশি সতর্কবার্তা পাঠাতে বাধ্য হয়। তথ্যের আগাম ফাঁস হওয়ার কারণে প্যাচ প্রকাশের আগের প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা সময়কালটি ইন্টারনেটের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আগাম তথ্য ফাঁস হওয়ায় প্যাচ প্রকাশের আগপর্যন্ত ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ত্রুটির সম্ভাব্য প্রভাবের পরিধি নজিরবিহীন। সমস্যার সমাধানে পিএইচপি ফাউন্ডেশন কাজ করলেও নতুন প্যাচ প্রয়োগ করার ক্ষেত্রেও রয়ে গেছে বড় চ্যালেঞ্জ। পুরনো সংস্করণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করা, ওয়েবসাইটের কর্মক্ষমতা ঠিক রাখা এবং তৃতীয় পক্ষের এক্সটেনশনগুলোর কার্যকারিতা বজায় রাখার বিষয়টি ডেভেলপারদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান ডিজিটাল অবকাঠামোয় পিএইচপির ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ছোট একটি ত্রুটিও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।