, ,

ফতুল্লায় কুবি শিক্ষার্থী ফারজানার মৃত্যু: স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 

সংবাদচর্চা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী নাজমুল আলমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। রোববার রাতে ফারজানার বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আব্দুর রহিম (৫০), ফারজানার ননদ আফরোজা বেগম (৪৫), দেবরের স্ত্রী সায়মা আক্তার (২৫), দেবর রাসেল (৪২), সাইফুল আলম (৩৬) ও শাশুড়ি রোকেয়া বেগম (৬৮)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে পারিবারিক সম্মতিতে সাত লাখ টাকা দেনমোহরে নাজমুল আলমের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পরে নাজমুল মুন্সিগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে সেখানে বাসা ভাড়া করেন। এ সময় ফারজানা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে তিনি স্বামীর বাসায় যেতেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে ফারজানার পরিবার নাজমুলকে আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করে। তবে পরবর্তী সময়ে আসামিরা ফারজানার কাছে যৌতুক দাবি করেন এবং তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা। বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি সিআর মামলা করেন। পরে ওই মামলার বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মিটিয়ে ফারজানা আবার স্বামীর সঙ্গে সংসার শুরু করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি পেয়ে ফতুল্লার ভুইগড় এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। চলতি মাসের ২০ অক্টোবর ফারজানা ওই বাসায় যান।

ফারজানার বাবার অভিযোগ, ঘটনার দিন আদালতে দায়ের করা মামলা নিয়ে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে নাজমুলের বোনের জামাতা ফোন করে জানান, ফারজানা শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, মামলা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ফারজানাকে সংসার করতে ভালো না লাগলে মরে যেতে বলা হয়েছিল বলে তাঁদের কাছে দাবি করা হয়।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ভুইগড়ের কবরস্থান রোডে দেলোয়ারের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় শয়নকক্ষের বিছানার ওপর একটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার কথা লেখা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ফারজানার স্বামী নাজমুল আলমকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

ফারজানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মুসুল্লি বাড়ির রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তাঁর স্বামী নাজমুল কুমিল্লা জেলার কচুয়া থানার নুরপুর গ্রামের তালুকদার বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। নাজমুলও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, মামলার এজাহার নামীয় অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেস্টা করছে পুলিশ।