, ,

মন্ত্রী গাজীর বেতনের টাকায় ইমামরা পেল ঈদ বোনাস

নবকুমার:
রূপগঞ্জে করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ইমামদের পাশে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক। জাতীয় সংসদ এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক যে সম্মানী বা বেতন পান সেই টাকা দিয়ে তিনি এবার ইমামদের ঈদ বোনাসের ব্যবস্থা করেছেন। গতকাল চনপাড়া শেখ রাসেল নগর ইউনিয়নের ১২ টি মসজিদের ইমামদের মন্ত্রীর বেতনার টাকায় ঈদ বোনাস দেওয়া হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন চনপাড়া শেখ রাসেলনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো: বজলুর রহমান। দেশের ক্রান্তিকালে মন্ত্রীর বেতনের টাকায় ইমামরা বোনাস পেয়ে আনন্দিত । বোনাস পাওয়া ইমামদের মধ্যে রয়েছে চনপাড়া ১ নং ওয়ার্ডের মাওলানা শরিফুল ইসলাম, ২ নং ওয়ার্ডে মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, ৩ নং ওয়ার্ডে মাওলানা আব্দুল খালেক, ৪ নং ওয়ার্ডে মাওলানা রাশিদুজ্জামান,৫ নং ওয়ার্ডে মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ, শাহজাহান, ৬ নং ওয়ার্ডে মাওলানা নুরুল হক, মাওলানা ইমরান, ৭ নং ওয়ার্ডে মাওলানা আনোয়ার হোসেন, মাওলানা আজিজুর রহমান শেখ, ৮ নং ওয়ার্ডে মাওলানা খায়রুল ইসলাম, ৯ নং ওয়ার্ডে মুফতি আব্দুর রহমান। শুক্রবার ( ২২ মে) ভোলাব ইউনিয়নের মসজিদের ইমামদের মাঝে মন্ত্রীর ঈদ বোনাস বিতরণ করা হয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক রণাঙ্গণে যুদ্ধ করে বীর প্রতীক খেতাব অর্জন করেছেন। এবার তিনি করোনা যুদ্ধে বসে নেই। মন্ত্রীর যা কিছু আছে তাই নিয়ে রূপগঞ্জে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া বিপন্ন ও অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে গাজী পরিবার। উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় নারায়ণগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকের নিজস্ব অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ ও দরিদ্র প্রবণ এলাকা চনপাড়ায় ১০ হাজার পরিবারের মাঝে মন্ত্রীর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তালিকা করে প্রত্যেকের ঘরে খাদ্য পৌছে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক তদারক করছেন গাজী গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা বিসিবি ও যমুনা ব্যাংকের পরিচালক গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পা। গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নারায়ণগঞ্জে অর্ধকোটি টাকার খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। তার মধ্যে তিনি রূপগঞ্জে ৩০ লাখ টাকার খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে ১৫ লাখ , তারাব পৌরসভাকে ১০ লাখ ,কাঞ্চন পৌরসভাকে ৫ লাখ টাকার খাদ্য সহায়তা দেন তিনি। মেয়র এবং উপজেলা প্রশাসন খাদ্য সহাতায় দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করেছে। গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পা রূপগঞ্জের পুলিশ , চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ,স্বেচ্ছাসেবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পিপিই,চশমা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ করেছেন। যার ফলে ডাক্তার ,নার্স ভালোভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রশাসন দায়িত্ব পালন করছে নিবিঘেœ।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন , পুলিশ সুপারের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সহ জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জীবাণুমুক্ত রাখতে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করে দিয়েছেন। গাজী গ্রুপের উদ্যোগে জেলার প্রত্যেকটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাসিক , সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কোভিড-১৯ সুরক্ষা বুথ স্থাপন হয়েছে। যার মাধ্যমে দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দেশে করোনার সংক্রমন কমানোর জন্য বেশি বেশি পরীক্ষার দরকার। আর করোনাভাইরাসের হটজোন নারায়ণগঞ্জ । নারায়ণগঞ্জে এক সময় করোনা পরীক্ষার ল্যাব ছিলো না। নারায়ণগঞ্জের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ঢাকার উপর নির্ভর করে থাকতে হয়েছে। তাতে অনেক রিপোর্ট দিনের পর দিন ঢাকায় আটকে থেকেছে। নারায়ণগঞ্জবাসীর সেই দুর্ভোগ কমাতে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকের নিজস্ব অর্থায়নে এবং গাজী গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা বিসিবি ও যমুনা ব্যাংকের পরিচালক গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পার উদ্যোগে রূপগঞ্জে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য গাজী কোভিড-১৯ রিয়েল টাইম পিসিআর টেস্ট ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা: জাহিদ মালেক এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক যৌথভাবে কাঞ্চনের বেস্টওয়ে সিটিতে গাজী কোভিড-১৯ রিয়েল টাইম পিসিআর টেস্ট ল্যাব উদ্বোধন করেন। ল্যাবটি স্থাপনের জন্য নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি ছিলো। করোনার হটজোন নারায়ণগঞ্জের প্রথম ল্যাব এটি । এখান থেকে বিনামূল্যে নারায়ণগঞ্জবাসীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হচ্ছে । দেশের প্রথম বেসরকারী ল্যাব এটি। এছাড়া গণমাধ্যমকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদাভাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে গাজী গ্রুপ।

এদিকে তারাব পৌরসভার মেয়র হাছিনা গাজী তালিকা করে বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন কাউন্সিলরদের মাধ্যমে। সরকারী ত্রাণের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।