কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী এবং ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ছয় ঘণ্টার এক সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ৬ ঘণ্টার অভিযানে ৩৫১ জনকে আটক করা হয়। কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং: রতনের পাশাপাশি ‘পয়েন্ট সাব্বির’ ও ‘কিং মেকার’ গ্রেপ্তার।
জেলা পুলিশের ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সমন্বিতভাবে এই অভিযানে মোট ৩৫১ জনকে আটক করে। পুলিশের ভাষ্যমতে, আটককৃতদের মধ্যে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাকি ২১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ওপর পুলিশি নজরদারি রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকিতে জেলার সবকটি ইউনিটে এই অভিযান পরিচালিত হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে কি না কিংবা তারা সরাসরি অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নিরপরাধ কেউ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের পুলিশি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জেলায় কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। সেই ঘটনার পর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে জেলার ১৮টি থানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করে পুলিশ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘমেয়াদী অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্টদের মুচলেকা গ্রহণ করে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব কমাতে ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এই অভিযান চলমান থাকবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের ১৪২ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এর আগেও গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর টানা দুই রাতের বিশেষ অভিযানে ৪৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল। ওই সময়ও নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে পিএক্স ১০, ১২০৭ এবং আর স্কোয়াডের মতো স্থানীয় গ্যাংগুলোর নাম উঠে আসে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। অপরাধ নির্মূলে এই ধরনের ধারাবাহিক নজরদারি বজায় রাখার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ। ‘পিএক্স ১০’ ও ‘১২০৭’ নামে দুটি কিশোর গ্যাং কুমিল্লার দুই উপজেলায় তৎপর। তাঁদের মধ্যে ২৩ অক্টোবর ২৭৫ জন আটক হন। ২২ অক্টোবর আটক করা হয়েছিল ১৭৫ জনকে।