
বদিউজ্জামান:
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখ, আগামীতে তোমাদের নেতৃত্বে দিতে হবে তাই ছাত্র জীবনে অনেক বেশী আরাম আয়েশে থাকো। কর্মজীবনে কষ্ট করতে হবে, তবেই তোমাদের কঠোর পরিশ্রম করার কারণে তোমরা বিশ্বভ্রমণ করতে পারবে।
এমন স্বপ্ন দেখ যে স্বপ্ন তোমাকে সামনে নিয়ে যাবে। এই বার একাডেমি ছাত্র ছাত্রীরা বিশ্ব ও বাংলাদেশের জন্যে যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবে।
বুধবার (১৮ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমি স্কুল এর বার্ষিক ক্রীড়া পুরুস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি একেএম শামীম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রেজাউল বারী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা বেগম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, অনুষ্ঠানে একটু দেরিতে আসায় দুঃখ প্রকাশ করেন। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন করার জন্যে তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের অভিনন্দন জানান ও প্রশংসা করেন।
রাব্বী মিয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি এখন ডিসি। যখন ছাত্র ছিলাম কঠোর পরিশ্রম কওে, আজ আমি সকল পদক্ষেপে জয়ী হয়ে আজ ডিসি হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী শিক্ষার্থীদের অনুসরণ করবে। তোমরা সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিবে বলে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সৃষ্টি কর্তার প্রতি আনুগত্য হওয়ার আহবান রাখেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বড় হতে হলে বাবা মায়ের সম্মান করতে হবে। আমাদের শতভাগ কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
ছাত্রদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন আমরা যারা বড় বড় নেতা বা আমলা আমরা অনেকেই চাইনা তোমরা বড় হও। তোমরা তোমাদের নিজের জীবনকে ভালোবাসতে পারলে তোমরা মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গি থেকে নিজে বাঁচাতে পারবে। যদি মাদক থেকে দূরে থাকতে না পারো ২০২৮ সালে নেতৃত্বে দিবে আমাদের মায়ের জাতির এই আজকের ছাত্রীরা।
শিক্ষক শিক্ষিকাদের সম্মান করার তাগিদ দিয়ে ডিসি বলেন, আমি আজো আমাদের সেই প্রাইমারি ও হাইস্কুল এর শিক্ষকদের দেখতে পেলে আমরা পায়ে ধরে সালাম করি। তাই তোমরা ও শিক্ষকদের ও মাকে সম্মান করবে আর মনে রাখবে সম্মান, শিষ্টাচার হলো আদর্শের প্রতিক। তোমরা বাবা-মাকে সম্মান করবে।
শিক্ষার্থীদেরকে রাব্বি মিয়া বলেন, তোমরা পৃথিবীর সকল অপবাদ ও অন্যায় থেকে দূরে থাকবে। এই বাংলাদেশ যদি উন্নত হয় এর সকল ভাগ বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তোমরাও পাবে। আজ আমাদের দেশের শ্রমিক বিদেশে কাজ করে। আমরা যদি সুন্দর ভাবে কাজ করি এদেশেই কোন একদিন ঐ ভিন্ন দেশ থেকে এসে তারাও কাজ করবেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার জন্য তিনি বার একাডেমিতে একটি কালচারাল ডাইস কওে দেয়ার ঘোষনা দেন ।
যে ছিলো দৃষ্টির সীমানা শিরোনামে বাবাকে নিয়ে একটি গান গেয়ে তিনি তার বক্তব্যের সমাপ্তি করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা বেগম তার বক্তব্যে বলেন, ক্রীড়া আর সংস্কৃতি বাংঙ্গালী ইতিহাস এর এক ঐতিহ্য। যা আমাদের নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করে। তরুনদেরকে বেশি বেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমুখি করতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রেজাউল বারী বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে। তাই বেশি বেশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের তাগিদ দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে রাখেন, নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমীর সভাপতি, একেএম শামীম চৌধুরী বলেন, শরীর মন দর্শন বিদ্যা বুদ্ধি লাগে দেশ গঠন করতে। তিনি এই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সকলে ধন্যবাদ জানান।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করায় শিক্ষার্থীদের পুরুস্কার দেয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, তনিমা আক্তার বাবুনি, রাত্রি আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, ফাতেমাতুজ্জোহরা, প্রান্ত, ফজলে রাব্বি, ইয়াসির আরাফাত, সৈয়দ সায়িম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার শামিমা নাসরিন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কো-অপ্ট সদস্য জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ, সহকারী কমিশনার উজ্জল হোসেন, ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

