সংবাদচর্চা রিপোর্ট
নগরী লুতফা টাওয়ারের মালিক আবদুর রউফের ছেলে লুতফুর রহমান সুমনকে আটক করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।
১৪ (ডিসেম্বর) শনিবার বিকেলে লুতফা টাওয়ারের পাশের গলি থেকে সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এস.আই) শাহাদাৎ লুতফুর রহমান সুমনকে আটক করেন।
উপ পরিদর্শক শাহাদৎ সাংবাদিকদের জানান, লুতফুর রহমান সুমনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট (গ্রেপ্তারী পরোয়ান) রয়েছে এ জন্য তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে টেলিযোগাযোগ আইনের মামলা রয়েছে।
এদিকে তাকে ছারানোর জন্য সুমনের স্ত্রী জিয়াসমিন খন্দকার হ্যাপি ও তার মা লুতফা বেগম সংশ্লিষ্ট উপর মহল পর্যন্ত দৌরঝাপ করছেন বলে জানা গেছে। একই সাথে আটক সুমনের লোকজন থানা ঘেরাও করার পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লখ্য যে, গত ৮ ডিসেম্বর (রববার) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের আব্দুল হামিদ খান মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনে করেছিলেন, লুৎফা টাওয়ার মারিক মৃত আব্দুর রউফের চার মেয়ে আসমা আক্তার সুইটি, মাহমুদা মাকসুদ সোনিয়া, তানিয়া রউফ অথী, সাদিয়া রহমান। সেই সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেছিলেন, শহরের চাষাঢ়ায় লুৎফা টাওয়ারের মালিক আব্দুর রউফ মারা যাওয়ার পর সম্পত্তি দখল করেছে তার স্ত্রী লুৎফা বেগম ও ছেলে লুৎফর রহমান সুমন। ওয়ারিশ থাকলেও চার মেয়েকে কোন সম্পত্তি দেয়া হয়নি। সম্পত্তির ভাগ চাইতে গিয়ে উল্টো মামলার শিকার ও জেল খাটতে হয়েছে এমন দাবি করেছিলেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়েদের পক্ষে মাহমুদা মাকসুদ সোনিয়ার স্বামী আল মাকসুদ এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, লুৎফা টাওয়ারের মালিক আব্দুর রউফ মারা যাওয়ার পূর্বে তার এক ছেলে ও চার মেয়েকে ওয়ারিশ হিসেবে রেখে যান। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর চার বোনকে বঞ্চিত করে ভাই লুৎফর রহমান সুমন পিতার সম্পত্তি সম্পূর্ণই দখলে নিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে তাদের মা লুৎফা বেগমও সহযোগিতা করছেন ভাইকে। এমনকি আমাদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানা ও ফতুল্লা থানায় মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে জিডি করে। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার থানায় গিয়ে কোন সহযোগিতা পাইনি। বাবার ওয়ারিশ হিসেবে সম্পত্তির ন্যায্য অংশ ও সকল আয় বন্টনের জন্য ভাইকে বার বার অনুরোধ করা হলেও সে তা না করে সব কিছু দখলে নিয়ে নেয়।
এ অবস্থায় আমরা চার বোন কোন উপায় না দেখে আমাদের পিতার সমস্ত জমির ন্যায্য অংশ আমাদের নিজেদের নামে নামজারী করে নেই। বিষয়টি জানার পর আমাদের উপর আমার মা ও ভাই পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। এভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের স্বামীসহ চার বোন ও আমাদের এক বোনের দুই বছরের এক বাচ্চাসহ জেল খাটায়।
মৃত আব্দুর রউফের চার মেয়ে বলেন, আমার মা লুৎফা বেগম ও ভাই লুৎফর রহমান বিভিন্নভাবে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি ও ক্রমাগত ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এই অবস্থায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সকল মিথ্যা মামলার তদন্ত সাপেক্ষে সকল মামলার নিষ্পত্তি ও ন্যায় সংগত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ বিষয়ে জানতে লুৎফর রহমান সুমনের মুঠোফোনের নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।