
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে র্যাবের মাদক বিরোধী অভিযানে নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের বরখাস্তকৃত এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৩ জুলাই) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জে র্যাবের মাদক বিরোধী অভিযানে ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ টাকাসহ সুমন (২৫) নামে এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১। সুমনকে গ্রেফতারের পরই জানা যায় সালাউদ্দিন নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের একজন বরখাস্তকৃত এএসআই। অভিযান চলাকালে সালাউদ্দিন ও তার ড্রাইভার জাসিম র্যাবের উপস্তিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে র্যাব-১১ সিনিয়র এএসপি জসিম উদ্দিন (পিপিএম) স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশব্যাপি চলমান মাদক বিরোধি অভিযানের প্রেক্ষিতে র্যাব সিদ্ধিরগঞ্জে বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করে বেশ কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায়িকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্য মতে সিদ্ধিরগঞ্জে সালাউদ্দিন নামে পাইকারি এক ইয়াবা বিক্রেতার নাম উঠে আসে। সালাউদ্দিন নিজের ব্যাক্তিগত গাড়ি ব্যাবহার করে বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পৌছে দেয়। পরবর্তীতে র্যাব সালাউদ্দিনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রাখে। গোপনসংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সোমবার (২৩ জুলাই) রাত ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী ফ্রেন্ডস টাওয়ারে সালাউদ্দিনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় র্যাব।
এসময় সালাউদ্দিন ও তার ড্রাইভার র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেলেও আটক হয় তার সহকারী সুমন। পরে সুমনের স্বিকারোক্তি অনুযায়ী বাড়ির মালিককে সাথে নিয়ে সালাউদ্দিনের ঘর তল্লাশী করে ৫,২০০ পিছ ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ ৮ লক্ষ্য ৫০ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে নারায়ণগজ্ঞ সদর থানা এলাকায় সালাউদ্দিনের আরেকটি বাসায়ও র্যাব তল্লাশী চালিয়ে ৪০০ পিছ ইয়াবা ও নগদ ৫০হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে র্যাব সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানাতে পারে ইয়াবা ব্যাবসায়ি সালাউদ্দিন পুলিশের একজন বরখাস্তকৃত এএসআই। সে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলো। মাদক ব্যাবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে প্রায় সাত মাস আগে তাকে চাকরিচূত্য করা হয়।
তখন থেকেই সালাউদ্দিন পলাতক রয়েছে। পলাতক অবস্থায় সে তাকে ডিবি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চলা ফেরা করতো। স্থানীয়রা তাকে সালাউদ্দিন স্যার ও ডিবি স্যার হিসেবে চিনতো বলে জানা গেছে। সালাউদ্দিনের মাদক পরিবহনের জন্য তিনটি প্রাইভেটকার রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে সে নিজেই ইয়াবা বহন করে বিভিন্ন স্থানের সরবরাহ করতো। তার এই কাজের জন্য জাসিম,ওসমান ও বাহাদুর নামে তিনজন ব্যাক্তিগত গাড়ি চালকও রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকায় “জেন্টস পার্লার” নামে তার একটি সেলুনের দোকান রয়েছে। মাদক ব্যাবসার হিসেব রাখার জন্য রয়েছে ব্যাক্তিগত সহকারি। র্যাব আরো জানায় সালাউদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে চালক জাসিম,ওসমান ও বাহাদুরের মাধ্যমে প্রাইভেটকারে করে নারায়ণগঞ্জ,ঢাকা,মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন মাদক স্পটে নিয়মিত ইয়াবা পৌছে দিত। পরে তারা ইয়াবা ব্যাবসায়িদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে সুমন, সালাউদ্দিনের নির্দেশে ব্যাংকে, মোবাইল ব্যাংকিং ও এসএ পরিবহনের মাধ্যমে কক্সবাজারের ইয়াবা সরবরাহকারীদের কাছে নিয়মিত টাাকা পাঠিয়ে দিতো।
বরখাস্তকৃত এএসআই সালাউদ্দিন পুলিশের ডিউটির ধরণ, মাদক বিরোধী অভিযানের পদ্ধতি সহ অপরাধ নিয়ন্ত্রনে পুলিশের কর্মকৌশল সম্পর্কে ধারণা থাকায় সে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে সহজেই মাদক ব্যাবসা করে যাচ্ছিলো। তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া পুলিশের বরখাস্তকৃত এএসআই সালাউদ্দিনকে আটকের জন্য র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

