, ,

নিউইয়র্কের ক্যাথলিক গির্জায় বিপুল ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্যাথলিক গির্জার যাজকদের হাতে দীর্ঘসময় ধরে নিপীড়নের শিকার হওয়া প্রায় ১ হাজার ৩০০ ব্যক্তিকে ৮০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে গির্জার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ আলোচনার পর চূড়ান্ত হওয়া এই সমঝোতার আওতায় প্রত্যেক ভুক্তভোগী অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করে পাবেন। তবে নিপীড়নের ভয়াবহতা বা মাত্রার ওপর ভিত্তি করে অনেক ভুক্তভোগী এর চেয়ে বেশি অর্থও পেতে পারেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিউইয়র্কের আর্চডায়োসিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা ভুক্তভোগীদের সাথে এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। আর্চডায়োসিসের এক ইমেইল বার্তায় নিউইয়র্কের আর্চবিশপ আশা প্রকাশ করেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা কিছুটা হলেও মানসিক প্রশান্তি এবং পুনর্মিলনের সুযোগ পাবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সমঝোতা সম্পাদনের ফলে আর্চডায়োসিস এখন থেকে সুসমাচার প্রচার, অসুস্থদের সেবা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তা এবং শিশুদের শিক্ষার মতো সেবামূলক কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। আর্চডায়োসিসের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ইমেইলে যাজকদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় নিউইয়র্কের আর্চবিশপ বলেন, ‘ঈশ্বরের কৃপায় আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের কিছুটা হলেও মানসিক স্বস্তি ও পুনর্মিলনের সুযোগ করে দিতে পারব।’।

ভুক্তভোগীদের আইনজীবী জেফ অ্যান্ডারসন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ভুক্তভোগীদের অসীম সাহস ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমেই দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার পথে এই অর্থবহ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

এটি ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এর আগে ২০২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের আর্চডায়োসিসও একই ধরনের নিপীড়নের ঘটনা নিষ্পত্তিতে ৮৮ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের সমঝোতার মধ্যে বৃহত্তম। এছাড়া চলতি বছরের জুন মাসে সান ফ্রান্সিসকোর আর্চডায়োসিস প্রায় ৫৩০ জনের দায়ের করা মামলা ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারে নিষ্পত্তি করতে সম্মত হয়েছিল।

ক্যাথলিক গির্জায় যৌন নিপীড়নের এই সংকট ২০০০-এর দশকের শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে আসে যে, কয়েক দশক ধরে যাজকদের হাতে হাজারো শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে গির্জার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি অনেক সময় অভিযুক্ত যাজকদের বিচারের আওতায় না এনে কেবল অন্য স্থানে বদলি করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার নজিরও পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক গির্জা ২০০০-এর দশকের শুরুর দিক থেকে যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত একের পর এক কেলেঙ্কারির মুখে রয়েছে।

আদালতের দীর্ঘ বিচারিক জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ এড়াতে বর্তমানে গির্জা প্রশাসনগুলো সরাসরি সমঝোতার পথে হাঁটছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কেলেঙ্কারি কাটিয়ে উঠতে গির্জার পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে কয়েক বছর ধরে চলা আলোচনা শেষ হওয়ার পথে।