, ,

ডিজিটাল মার্কেটে নারী ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য

ডিজিটাল মার্কেটে নারী

ডিজিটাল মার্কেটে নারী

 

এ্যানি চন্দ্র:
ঈদ বা যে কোন উৎসবে কেনা কাটা হয় প্রচুর। আর ব্যবসায়ীরা উৎসবের অপেক্ষায় থাকে। এর কারণ হচ্ছে উৎসবগুলোতে সাধারনত বেচা কেনা হয় প্রচুর। আর এসব উৎসবকে টার্গেট করে মৌসুমী ব্যবসায়ীরও দেখা মিলে। বড় বড় বিপনি বিতান থেকে শুরু করে ছোট ছোট দোকান অথবা ভ্রাম্যমান বেচা কেনা এতোদিন চললেও বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আর এসব অনলাইন মার্কেটিং বা ডিজিটাল মার্কেটে প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে নারী ব্যবসায়ীদের। উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের এগিয়ে আসা বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের অনেক নারী আছেন যারা ঘরের বাইরে গিয়ে চাকরি করতে পারছেন না কিন্তু তারা স্বাবলম্বী হতে চান। সেদিক থেকে অনলাইনের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসে ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ডিজিটাল বা অনলাইন ব্যবসার সুবিধা হলো- অল্প পুঁজিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াই ব্যবসা করা যায়। এটা মেয়েদের জন্য স্বাবলম্বী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। শুধু একটু ব্যবসায়িক জ্ঞান থাকলেই উন্নতি করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অনলাইন সেক্টরে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা ব্যাপক আকারে বাড়বে বলে আশা করা যায়। উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অনলাইনে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানান ডিজিটাল মার্কেট সংশ্লিষ্টরা। বেচা কেনার জন্য নির্দিষ্ট সাইটগুলোর পাশাপাশি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও জমে উঠেছে এই কেনাবেচা। বিশেষ করে ভিন্ন ভিন্ন আকর্ষণীয় ওয়েব পেজের ভেতর থেকেই ক্রেতারা খুঁজে নিচ্ছেন তাদের পছন্দের পণ্য। উদ্যোক্তাদের মতে, নতুনদের পাশাপাশি বিশ্বের বড় মাপের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের পণ্যের প্রচারে ব্যবহার করছে ফেসবুক।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াই ঘরে বসে ব্যবসা পরিচালনা করা যায় বলে নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে এ মাধ্যমটি বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে বিশেষ করে শহরগুলোতে।
বর্তমানের ডিজিটাল বা প্রযুক্তির যুগে অনলাইনে কেনা-বেচা একটি বড় মাধ্যম। শুধু মার্কেট থেকেই পণ্য কেনা-বেচা হয় তা নয়। অনলাইনের মাধ্যমে পণ্য কেনা-বেচা চলে। আগে মানুষ মনে করত পন্য অনলাইন থেকে কিনলে ভালো পন্য মিলবে না। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই ধারনা পালটে গেছে। সব ধরনের পণ্য এখন অনলাইনে পাওয়া যায়। খাবার থেকে শুরু করে বাসা খোঁজাসহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য এখন পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে।
প্রতিদিন অনলাইনে কেনা-বেচা হলেও বিশেষ দিনগুলোতে অনলাইনে বেচা-কেনা চলে জমজমাট। তাই আগে থেকেই অনলাইন ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অফার ও ছাড় দিয়ে থাকে। আসছে ঈদ অফলাইনে কেনা-বেচার পাশাপাশি অনলাইনে চলছে কেনা-বেচার ধুম। ঈদে বিভিন্ন রঙের বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। শুধু পোশাকই নয় ঈদ উপলক্ষে অনলাইনের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান ছাড় ও গিফট দিচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে বসে আনন্দের সাথে কেনাকাটা করার একটি নতুন মাধ্যম এনে দিয়েছে অনলাইন প্রতিষ্ঠান। ঘরে বসেই পছন্দের শপিং সেরে ফেলা যায়। এই আনন্দ এনে দিয়েছে অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো।
নারায়ণগঞ্জে নারী উদ্যোক্তাদের পরিচালিত বেশ কয়েকটি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিবরন নিচে দেয়া হলো-

 

ডিজিটাল মার্কেটে নারী

গার্লস এম্পাওয়ার্ড:
অনলাইন বাজার গার্লস এম্পাওয়াড ঈদ উপলক্ষে আয়োজন করছে ঈদ মেলা।
জনপ্রিয় এই শপিং সাইটে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, যেকোন পন্যের অর্ডার দিলেই ক্রেতারা পাচ্ছেন পন্য চুড়ি/গহনা আরোও অনেক কিছু। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন রকমের ঈদ শাড়ি, নতুন ডিজাইনের অরনামেন্টস, লেডিজ কুর্তি। ঈদ উপলক্ষে ডিসকাউন্টও দিচ্ছে।

 

ডিজিটাল মার্কেটে নারী

বিউটি সলিউশন:
ঈদকে সামনে রেখে বিউটি সলিউশন দিচ্ছে হোমমেড ব্রাইট ক্রিম, ব্রাইট লোশন,স্পট আউট ক্রিম,ডে ক্রিম, আই ক্রিম,হারবাল হেয়ার অয়েল,হোমমেড শেম্পু,হোমমেড ফেসওয়াস সহ বিভিন্ন পণ্যে। ক্রেতাদের জন্য ঈদ উপলক্ষে থাকছে ডিসকাউন্ট আরোও থাকছে আকর্ষণীয় গিফ্ট। ঢাকায় ২৪ ঘন্টা ও ঢাকার বাইরে সর্বোচ্চ ৭২ ঘন্টায় ডেলিভারি দেয়া হয়। পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধের সুবিধার পাশাপাশি বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যাবে।

 

ডিজিটাল মার্কেটে নারী

 

রিফা বুটিক হাউস:
রিফা বুটিক হাউসে আছে কাতান আর ইন্ডিয়ান বুটিকস,কারচুপি ড্রেস, ব্যাগ,বম্বে বুটিকস।ঈদ উপলক্ষে রিফা বুটিকস দিচ্ছে আকর্ষনীয় ছাড়।

 

ডিজিটাল মার্কেটে নারী

 

ময়ূরাক্ষী:
ময়ূরাক্ষী তে আছে শাড়ি, ড্রেস, ওয়ান পিস, টু পিস,গরজিয়াস গাউন, লেহেঙ্গা আর ঈদ উপলক্ষে থাকছে ডিসকাউন্ট।

 

ডিজিটাল মার্কেটে নারী

 

অঙ্গনা:
অঙ্গনা তে আছে কানের দুল,এন্টিক নেকপিস, ক্লাসি নেকপিস,জামদানি শাড়ি,হাফ সিল্ক শাড়ি,জরি পার শাড়ি, গামছা শাড়ি,তাতেঁর শাড়ি।আর ঈদ উপলক্ষে থাকছে ডিসকাউন্ট। পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধের সুবিধার পাশাপাশি বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যাবে।

 

ডিজিটাল মার্কেটে নারী

কাটাকুটি:
কাটাকুটি তে পাওয়া যাচ্ছে ড্রিম কেচার, কুশন কভার নিতে চাইলে ৫০% টাকা আগে বিকাশে পেমেন্ট করতে হবে, গ্লু স্টিক ১২ টাকা প্রতি পিস, ইনভাইটেশন কার্ড ১২০ টাকা, পপ আপ বক্স, মোবাইল ব্যাক কভার, গ্লিটার ওয়াসিটেপ ২৫ টাকা, জন্মদিনের কার্ড, রোজ রিং, গিফ্ট বক্স, মিনি ডায়রি, টিস্যূ পেপার পম পম, ওয়াল ডেকর, ওয়াল হেনগিং। ঈদ উপলক্ষে দিচ্ছে আকর্ষনীয় ছাড়।

 

ডিজিটাল মার্কেটে নারী

 

বি গরজিয়াস:
অনলাইন শপিং বি গরজিয়াসে আছে নথ, ব্রেসলেট, স্টোন ইয়ারটপ, ফিঙ্গার রিং, ঝুমকা, ইয়ার রিং, হাসলি, ট্যাসের কানের দুল, গোল্ড প্লেট কানের দুল, লকেট, ডায়মন্ড কাট লকেট, ডায়মন্ড কাট মঙ্গলসূত্র। ঈদ উপলক্ষে থাকছে ১০-১৫% ডিসকাউন্ট।

 

ডিজিটাল মার্কেটে নারী

 

গার্লস প্লাটফ্রম:
অনলাইন শপিং গার্লস প্লাটফ্রমে আছে বব ব্লেক কাজল, হাইলাইটার, রেডনেস লুকান, বেমবো ব্রাশ, আইসেডো পেলেট, ফেকুলার লস অ্যাক্রিলিকস, মেট লিপস্টিক, কালারপপ পেনসিল লিপস্টিক, হেয়ার রিপেয়ার ক্রিম, গ্লিটার, পিল অফ মাক্স, ফেকুলার কনসিলার, বিউটি ব্লেন্ডার, কনটোর কিট, ফ্রেন সোপ, ফেকুলার ফাউন্ডেসন, হোয়াইটিং ফেসপ্যাক। প্রত্যেকটা পন্যে থাকছে ২০% ডিসকাউন্ট।
এছাড়াও আরও অসংখ্য অনলাইন শপিং আছে ঈদ উপলক্ষে প্রত্যেকটা অনলাইন শপিং সেন্টারগুলো দিচ্ছে আকর্ষনীয় ছাড় আবার নারায়নগঞ্জ ছাড়াও ঢাকায় ও ডেলিভারি দিচ্ছে।
এখন আর যানজট ঠেলে এবং ভিড়-ধাক্কাধাক্কি পেরিয়ে শপিং করতে যাওয়ার ঝামেলা পোহাতে হয় না। চাইলে ঘরে বসেই এখন পছন্দের শপিং সেরে ফেলা যায়।এই আনন্দ এনে দিয়েছে অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো।
অনলাইন ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর বেচাকেনা বেড়েছে প্রায় ২০-২৫% শতাংশ।