নিজস্ব প্রতিবেদক
একদা যারা নিজেদের খুব ক্ষমতাশালী ভাবতেন তারা এসপি হারুনের আমলে চুপসে গিয়েছিলেন। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন, কেউ মামলার আসামী কারও বিরুদ্ধে আবার জিডি হয়েছে। একটি প্রভাবশালী বলয়ের এ ক্ষমতাবান নেতারা নারায়ণগঞ্জ থেকে এসপি হারুনের বদলীর খবরে খুব খুশী হয়েছিলেন। তবে নতুন করে ডিএমপি উপ কমিশনার হিসেবে তার বদলীর আদেশে কিছুটা বিষ্মিত হয়েছেন তারা। আবার যারা এসপি হারুনের কর্মকান্ডের সমর্থন করতেন তারা খুশী হয়েছেন।
জানা গেছে, গত বছর নারায়ণগঞ্জে এসপি হারুন যোগদানের পর বেশ কয়েকটি অভিযান চালায়। এসব অভিযানে শহরের ব্যাপক আলোচিত জুয়ার আসর, ফতুল্লার পাগলা মেরি এন্ডারসনে অভিযান চালিয়ে ৬৮ জনকে গ্রেফতার সহ মাদক উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও পাগলার সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু ও পাগলা সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি টেনু গাজীকে চাঁদাবাজির মামলায় পৃথক সময়ে গ্রেফতার করে। এছাড়া ২৮ ডিসেম্বর সদর মডেল থানার দায়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় জাতীয় পার্টির নেতা জয়নাল আবেদীন ওরফে আল জয়নালকে শহরের টানবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আরও জানা গেছে, ২ আগস্ট রাতে শহরের নবীগঞ্জ ফেরী ঘাট এলাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দীন আহমেদ দুলাল প্রধানকে মাদকসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৮ এপ্রিল শহরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে বন্দর থানায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ১৯ এপ্রিল রাতে ভূইগড় রূপায়ন টাউনের ফ্ল্যাট মালিক আবু সাঈদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনকে প্রধান আসামী করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিতাইগঞ্জ নলুয়াপাড়া এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবির হোসেন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে কাউন্সিলর কবির হোসেন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নারসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে।
অপরদিকে সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজামের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে জিডি দায়ের এবং শহরের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল ইসলাম মুন্নাসহ কাউন্সিলর কবির হোসাইনকে গ্রেফতারের ঘটনা ছিলো ব্যাপক আলোচিত। এছাড়া কাউন্সিলর সজলের বিরুদ্ধে অপহরনের অভিযোগ, শহর অচলের আলটিমেটাম দেয় খালেদ হায়দার খান কাজল। এর পর ৬ এপ্রিল শহরের ইসদাইর বাংলা ভবনে এক কর্মী সভায় ততকালিন পুলিশ সুপার কে উদ্দেশ করে শামীম ওসমান বলেছিলেন, খেলা হবে না। খেলা শুরু হবার আগেই খেলা শেষ হয়ে যাবে। এটা গাজীপুর না নারায়ণগঞ্জ।
২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে হারুন অর রশীদকে নারায়ণগঞ্জ থেকে সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার (টিআর) শাখায় বদলী করা হয়। একটি ব্যবসায়ী পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বদলী হয় বলে সূত্র জানায়। তার বদলীতে সবচেয়ে বেশী খুশী হয়েছিলেন শামীম ওসমান অনুগতরা। তারা একে অপরের সাথে বলাবলি করতেন, আর কখনও ভালো কোন পোস্টিং হবে না হারুনের। তবে সে ধারণা বদলে দিয়ে এসপি থেকে হারুনকে এখন ডিএমপির উপ কমিশনার করা হয়েছে। এ খবরে নারায়ণগঞ্জে সেই মহলটি খুশী হতে পারেননি। বিশেষ করে যারা মামলা গ্রেপ্তারে শিকার হয়েছিলেন তারা। আবার একটি পক্ষ এসপি হারুনের কর্মকান্ডের সমর্থন করতেন। বিশেষ করে শহর হকার মুক্ত রাখা, ক্ষমতাবান চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাওয়া, ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সম্পত্তি রক্ষা করা সহ নানা ভালো কর্মের পক্ষে ছিলেন। তারা উপ কমিশনার হিসেবে হারুন অর রশীদের পদায়নে খুশী হয়েছেন।