কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টের দ্য সি প্রিসেন্স আবাসিক হোটেলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে হোটেলের নিচতলার পার্কিং এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। আগুন লাগার সময় হোটেলটিতে তিন শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তবে দ্রুত সবাইকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
খবর পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রায় আধঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস ও হোটেল কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডে পার্কিং এলাকায় থাকা একটি জেনারেটরসহ হোটেলের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জেনারেটরের শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে এবং কর্মীদের সময়োচিত তৎপরতার কারণেই পর্যটকদের দ্রুত সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে। তারা সবাই এখন নিরাপদ রয়েছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, মাত্র ছয় দিন আগে গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়। সেই শোক কাটতে না কাটতেই পর্যটন নগরীর আরেকটি হোটেলে এমন আগুনের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক পর্যটক হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থান করেন, ফলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং জরুরি বহির্গমনপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলে হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর করার জোরালো দাবি উঠেছে।