, ,

এমপি মান্নানের আল্টিমেটামও উপেক্ষিত, কার ইশারায় চলছে চুনা কারখানা?


 

সংবাদচর্চা রিপোর্ট

সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁয়ে একাধিক চুনা কারখানা গড়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলটির তৎকালিন একাধিক প্রভাবশালী নেতা প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ চুনাভাট্টি চালিয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে এসব চুনা কারখানাগুলো কোটি কোটি টাকার গ্যাস চুরি করছে। অবৈধ উপায়ে এসব চুনা কারখানাগুলো চলছে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এদিকে চুনা কারখানা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩( সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি এসব অবৈধ কারখানা বন্ধে ১৫ দিনের আল্টিমেটাও দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে। গত (২৯ অক্টোবর) দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অবৈধ চুনাকারখানা বন্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেধে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কারখানা বন্ধ করা না হলে ক্ষুব্ধ জনগণের অসন্তোষ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে বলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জের চুনাভাট্টিগুলোর মালিকরা রাজনৈতিক কারণে গা ঢাকা দিলেও তাদের অবৈধ কারখানাগুলো এখনো সচল রয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।

তারা বলছেন, সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জের চুনাভাট্টিগুলোর মালিকরা ছিলেন আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা। এমনকি স্থানীয় কাউন্সিলরদেরও চুনাভাট্টির ব্যবসা রয়েছে। আবাসিক এলাকায় এসকল অবৈধ চুনাভাট্টিগুলো তারা বীরদর্পে চালিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানিয়েও প্রতিকার পায়নি। মূলত, সে সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকেরা ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি বিবেচনায় অবৈধ চুনাভাট্টিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমনকি ভাট্টিগুলোতে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ রয়েছে জেনেও তিতাস কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে নীরব ছিলো।
তবে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রভাবের বলে অবৈধ ভাবে চালিয়ে যাওয়া এসকল ভাট্টির মালিকরাও গা ঢাকা দেয়। এরপরও তাদের কারখানাগুলোতে অভিযান চালাতে দেখা যাচ্ছে না কর্তৃপক্ষকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবৈধ ভাবে চলছে একাধিক চুনাভাট্টি। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নবায়ন বন্ধ রাখা হলেও বিধি-নিষেধের কিছুই তোয়াক্কা করেনি চুনাভাট্টির মালিকরা। আবাসিক ও ঘনবসতিপূর্ন এলাকায় দিন-রাত একাকার করে চালানো হচ্ছে অবৈধ এই কারখানাগুলো। চুনাভাট্টির বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্য-নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও আক্রান্ত হচ্ছেন ভয়াবহ ব্যধীতে।

এদিকে, প্রায় তিন বছর ধরে লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ রাখলেও কোন উপায়ে সচল রয়েছে চুনাভাট্টিগুলো- তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে। তবে, নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, চুনাভাট্টির মালিকরা অভিযান ঠেকাতে হাইকোর্টে রীট মামলা করে তা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে। অভিযানে যাওয়া তো দূরের কথা- এখন মামলা মোকাবেলা করতে হচ্ছে দপ্তরটির কর্মকর্তাদের।

অভিযোগ রয়েছে, চুনাভাট্টির ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা স্থানীয় পর্যায়ে বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। পতিত সরকারের দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত, স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলরদের অনেকেই এই চুনাভাট্টির ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। তাই বিগত সময়ে প্রকাশ্যে পরিবেশ দূষণ করে গেলেও তাদের বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলও প্রতিবাদের সাহস করেন না।

এছাড়াও অবৈধ ভাবে পরিচালিত হওয়া এই চুনাভাট্টিগুলোর মালিকরা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেকেই রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছে। গেল কয়েক মাস আগে ঢাকা ও যমুনা লাইমসের মালিক চুনা খোরশেদের গোমর ফাঁস হলে আলোচনা শুরু হয়। তিনি স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার মালিকানা চুনাভাট্টিও অবৈধ ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে এমপি মান্নান বলেন, সোনারগাঁয়ে অবৈধ চুনাকারখানার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এসব কারখানা বন্ধে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হলেও কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু কারখানাগুলো চালু থাকায় সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এসব কারখানার বিষয়ে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অবৈধ চুনাকারখানাগুলো বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিতাস কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।