স্মৃতি হাতড়ালে দেখা যায়, ফোন নম্বর মনে রাখা বা ক্যালকুলেটর ছাড়াই হিসাব করার দিন ফুরিয়ে আসছে। আচ্ছা বলুন তো, শেষ কবে কারও ফোন নম্বর মুখস্থ ছিল আপনার।
ছোট এই বিষয়গুলো আসলে আমাদের বৌদ্ধিক সক্ষমতার এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সাদিয়া নামের এক কর্মজীবী রাত নয়টায় অফিসের একটি রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব এআইকে দেন। মাত্র ১০ মিনিটে কাজটি শেষ হয়ে গেলেও পরদিন বস যখন জানতে চাইলেন রিপোর্টের তথ্যের উৎস সম্পর্কে, তখন তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হচ্ছে কগনিটিভ অফলোডিং বা চিন্তার বোঝা যন্ত্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। এটি আপাতদৃষ্টিতে সুবিধাজনক মনে হলেও, অত্যধিক নির্ভরতা আমাদের মৌলিক চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে। প্রশ্নগুলো ছোট, কিন্তু এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক বড় ইঙ্গিত। রাত ৯টায় সাদিয়া (ছদ্মনাম) অফিসের একটা রিপোর্টের জন্য এআইকে বললেন, ‘পুরোটা লিখে দাও। পরদিন বস জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই সংখ্যাটা কীভাবে এল।
এআইয়ের সাথে কাজ করার সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি
- এআইকে ব্যবহারের আগেই বিষয়টি নিয়ে নিজে গভীরভাবে চিন্তা করুন।
- এআই থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই না করে কাউকে পাঠাবেন না, কারণ তথ্যের দায়ভার শেষ পর্যন্ত আপনার ওপরই বর্তাবে।
- পেশির জন্য যেমন নিয়মিত ব্যায়াম দরকার, তেমনি সপ্তাহের অন্তত একটি দিন এআই ছাড়াই কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
জিপিএস যেমন পথ চলতে সাহায্য করলেও অভিজ্ঞরা নিজের জ্ঞানকেই প্রাধান্য দেন, এআইও ঠিক তেমন হওয়া উচিত। যন্ত্র আমাদের মস্তিষ্কের সহকারী হতে পারে, বিকল্প নয়। আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কি এআইকে দিয়ে চিন্তা করাব, নাকি নিজের চিন্তাশক্তির উন্নয়নে যন্ত্রের সহায়তা নেব।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- উত্তর না বুঝে/যাচাই না করে কখনো অন্যকে পাঠাবেন না। কারণ, পরে প্রশ্ন উঠলে দায়টা আপনারই।