আজ বৃহস্পতিবার, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

মিনার ইন্ডাস্ট্রিজ শ্রমিকদের বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান

বকেয়া বেতন ও সার্ভিস সহ যাবতীয় পাওনাদি পরিশোধ এবং অবৈধভাবে কারখানা বন্ধ করায় নগরে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে গার্মেন্টস শ্রমিকরা।

রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে চাষাঢ়া প্রেস ক্লাবের সামনে মিনার ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রাঃ) লিঃ এর শ্রমিকরা এ কর্মসূচী পালন করে। তারপর তারা প্রথমে নারায়ণগঞ্জ শ্রম অধিদপ্তর এবং পরবর্তীতে এসপি অফিসে ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

শ্রমিকরা চাষাঢ়া শ্রম অধিদপ্তরের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ সহ কর্মকর্তাদের কাছে একটি অনুলিপি প্রদান করেন। অনুলিপিতে থাকা শ্রমিকদের দাবিগুলো ছিলো জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও ডিসেম্বর সহ সকল বকেয়া বেতন পরিশোধ। ১২০ দিনের নোটিশ পে বাবদ টাকা প্রদান। যাদের চাকরির বয়স ১-৯ বছর উর্দ্ধে তাদের প্রতিবছরের জন্য কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ১টি করে বেসিক বেতন ও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে গ্রোজ বেতন প্রদান করিতে হবে। যে সব শ্রমিকদের চাকরির বয়স ১০ বছরের উর্দ্ধে তাদের প্রতিবছরের জন্য কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ১.৫টি করে বেসিক বেতন ও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ১.৫টি করে গ্রোজ বেতন প্রদান করিতে হবে। এছাড়াও অর্জিত ছুটি বাবদ ৪০ দিনের প্রেক্ষাপটে তারা আরও কিছু দাবি রেখেছেন অনুলিপিতে।

শ্রমিকরা বলেন, মিনার গার্মেন্টসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ অবধি কেউ ৩০ বছর বা তার বেশি বছর পর্যন্ত কাঁজ করে আসছে। মালিক মহোদ্বয়দের সকল সুখে দুঃখে আলোচনা করে অত্যন্ত স্বল্প বেতনে কাজ করে আসছি। যা আপনারা প্রত্যেকের পে-স্লিপ দেখলেই বুঝবেন। কিন্তু কষ্টের বিষয় বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ফ্যাক্টরীর কিছু ডিপার্টমেন্টস কর্মরত অবস্থায় ছিলো গার্মেন্টস-এ। কারো সাথে পূর্বে কিছু না জানিয়ে ঐ দিন রাত সাড়ে ১১টায় ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর হক ও তার কিছু সহযোগি একটি নোটিশ প্রধান গেটে ঝুলিয়ে কারখানাটি বন্ধ করে দেয়।

তারা আরও বলেন, কারখানায় তখন কর্মরত কিছু কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের হুমকিমূলক আচরণ প্রদর্শন করে কারখানা হতে বের করে দেয় তারা। নোটিশটিতে নিয়ম বহির্ভূত কিছু ধারা উল্লেখ করা হয় যা শ্রম আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাই বিষয়টিতে আমরা প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ, বিকেএমইএ, বিজেএমইএ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট অনুরোধ করবে আমাদের দবিগুলো চলতি মাসেই বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যাবস্থা গ্রহণ করার জন্য।

এ সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরের তথ্য প্রদানকারি কর্মকর্তা এবং সহকারি মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, মিনার গার্মেন্টসের কিছু শ্রমিকরা আমাদের কাছে একটি অনুলিপি দিয়ে গেছে। কিন্তু এটির গ্রহণযোগ্যতা নেই আমাদের কাছে নিয়মে। কারন তারা এতো দিন আমাদের পরিদর্শকদের কাছে কিছুই বলে নি। আমাদের পরিদর্শকরা গার্মেন্টস-এ গিয়ে তাদের জিজ্ঞাস করলে তারা বলে ‘না কোন সমস্যা নেই মালিক পক্ষ হতে’। তারা আমাদের কাছে কোন স্বারকলিপিও দেয় নাই। তবুও তাদের এই অনুলিপি আমরা আমলে নিয়ে আমাদের পরিদর্শকদের গার্মেন্টস’এ তদন্তে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। সিদ্ধান্তের পর যদি সত্যতা খুজে পাই, অবশ্যই শ্রম আইন অনুযায়ি আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।