আজ সোমবার, ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফতুল্লার মুরগী ব্যবসায়ী মনির হোসেন কেরানীগঞ্জে উদ্ধার

মনির হোসেন কেরানীগঞ্জে উদ্ধার

 মনির হোসেন কেরানীগঞ্জে উদ্ধার

 

ফতুল্লা প্রতিনিধি:
ঘটনার তিনদিন পরে ২১ জুলাই বেলা ২টায় অবশেষে পরিবারের জোড়ালো হস্তক্ষেপে নিখোঁজ হওয়া মো. মনির হোসেন কাজীকে উদ্ধার করেছে অত্মীয় -স্বজনরা।
এলাকা সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার চৌধুরীবাড়ি এলাকায় মুরগী ব্যবসায়ী মো. মনির হোসেন কাজী (৩০) গত দুদিন যাবৎ নিখোঁজ হয়েছে। এ ব্যাপারে তার স্ত্রী মুন্নি বেগম (২০) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছে। ডিজি নং -৯৫৬ তারিখ : ১৯ জুলাই। এই তদন্তে দায়িত্ব থাকে এসআই মামুন উল আবেদ। কিন্তু তিনি এই জিডি তদন্তে মোটেই আগ্রহ প্রকাশ করেনি। বরং নিখোঁজ হওয়া মনিরের শ্বশুর, শ্যালক ভাই, ভায়রা ভাই ও মামা খালুদের হস্তক্ষেপে গতকাল বেলা দুই টায় ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন বাবুগঞ্জ আগানগর এলাকায় ইমান বাড়ি এলাকা থেকে চোখ বাঁধা অবস্থায় এলাকাবাসী একটি পরিত্যাক্ত মাঠ থেকে উদ্ধার করে। এরপর মনির হোসেনের মোবাইল সেট দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন দিলে তারা সেখানে গিয়ে মনির কে উদ্ধার করে ফতুল্লার বাসা নিয়ে আসে।
এব্যাপারে মনির জানান, গত ১৮ জুলাই রাত সাড়ে ১১ টায় বাসা থেকে রিক্সা যোগে শিবু মার্কেট এলাকায় যায়। এরপর মুরগী কেনার জন্য একটি সিএনজি নিয়ে ঢাকা কাপতান বাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় সে। স্টেডিয়ামের পরে ময়লা স্তুপের একটু সামনে গেলে সিএনজি থামিয়ে দুই জন যাত্রী উঠে এরপর মনিরের চোখ বেঁধে ফেলে। এরপর সিএনজি থেকে সাইনবোর্ড এলাকা থেকে আরেকটি মাইক্রোবাসে উঠায়। সেখান থেকে প্রায় ২ ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে একটি বাড়িতে নিয়ে তাকে মারপিট ও নির্যাতন করে। এরপর সেখান থেকে সকালে আবার চোখ বেঁধে ঢাকা কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন বাবুগঞ্জ আগা নগর এলাকায় ইমান বাড়ি চোখ বাঁধা অবস্থায় ঐ এলাকাবাসী একটি পরিত্যাক্ত মাঠে ফেলে ছিনতাইকারীরা চলে যায়। এরপর সেখানের লোকজন তাকে উদ্ধার করে এবং পরিবারের লোজনদের জানায়। তার কাছ থেকে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়।
জিডির সূত্রে জানাযায়, বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ থানাধীন অমরিকাপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল ওয়াহিদ কাজীর ছেলে মো. মনির হোসেন কাজী । সে দীর্ঘদিন যাবৎ ফতুল্লা চৌধুরী বাড়ি এলাকায় মো. শুভন চৌধুরীর ভাড়া দোকানে দেশী বিদেশী মুরগীর ব্যাবসা করে আসছে। সে মুরগীর ব্যবসার খাতিরে দুই দিন পর পরেই ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় মুরগীর আড়ৎ থেকে মুরগী আনে। প্রতিদিনের ন্যায় গত ১৮জুলাই সে রাত সাড়ে ১১টায় মোবাইলে ফ্লাক্সি লোড করার কথা বলে বের হয়। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। ফতুল্লাসহ গ্রামের বাড়ির আত্মীয় স্বজনের বাসায় খোজা খুঁজি করে তাকে পাওয়া যায়নি । এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন (০১৭৩০৮৫৪১৪৪ নম্বর) বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তাকে না পেয়ে তার স্ত্রী ফতুল্লা থানায় একটি জিডি দায়ে করেছে।
এলাকাবাসী জানান, মনির কিশোর বয়স থেকেই ফতুল্লা এলাকায় বসবাস করে কারও সাথে সে কোন প্রকার অশোভনীয় ব্যবহার করেনি। সে নিখোঁজ হওয়ায় এলাকার মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মনিরের স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তান মুসফিককে নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে।
এব্যপারে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ইন্সপেক্টর (অপরেশন) মজিবুর রহমান জানান, তদন্ত চলছে অব্যশই। কল ট্রাকিং হচ্ছে। সে অনুযায়ী মনির হোসেন কে উদ্ধার করেছে পরিবারে সদস্যরা। তবে পরিবারের সদস্যের সাথে আমার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়েছিলো। মনির কি ছিনতাইয়ে কবলে পরেছে নাকি সে নিজে কোন নারী গঠিত ঘটনায় জড়িয়েছে তা মনিরের কাছ থেকে জেনে নিবো। তদন্ত করে সঠিক তথ্য বের করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ