, ,

আগারগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের, সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের বেগম রোকেয়া সরণী অবরোধ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির কয়েক শ শিক্ষার্থী রাস্তায় অবস্থান নিলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে জড়ো হতে থাকেন। মূলত শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের স্লোগান ও দাবি

অবরোধস্থলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের কণ্ঠে শোনা যায়—‘সচিবালয় স্থানান্তর মানি না মানবো না’, ‘আপোস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ ও ‘টেক ব্যক টেক ব্যাক’। শিক্ষার্থীরা জানান, সচিবালয় এখানে স্থানান্তরিত হলে এলাকাটির পরিবেশ নষ্ট হবে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য হুমকিস্বরূপ। ৮২তম ব্যাচের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী রাফিউর রহমান রোহান বলেন, তাঁরা কোনোভাবেই এখানে সচিবালয় স্থাপনের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। অপর শিক্ষার্থী আবির বলেন, ‘আমাদের গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ পর্যন্ত নেই। এই মাঠটি ঐতিহাসিকভাবে আমাদের ছিল, তাই মাঠের মালিকানা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দিতে হবে।’

শিক্ষকদের সমর্থন ও প্রক্টরের বক্তব্য

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা জড়ো হওয়ার সময় সয়েল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম তাঁদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।

যাঁরা এখনো বুঝতে পারছেন না যে এই এলাকায় সচিবালয় হলে পরিবেশের কতটা অপূরণীয় ক্ষতি হবে, তাঁদের আমরা যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীরা নিজস্ব দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, শিক্ষার্থীরা কোনো প্রকার সহিংস আচরণ বা ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করবেন না বলে আশ্বস্ত করেছেন। পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন। এর অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার সকালে মাঠের নির্মাণাধীন স্থাপনায় শিক্ষার্থীদের উত্তেজনার খবর পাওয়া গেলেও, পরে কর্তৃপক্ষ তাঁদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনে। সচিবালয় স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে এই আন্দোলনের রূপরেখা কী হবে এবং সরকারিভাবে কোনো আলোচনা হবে কি না, তা নিয়ে এখন সবার দৃষ্টি নিবন্ধ রয়েছে। সচিবালয় কবে যাবে নতুন জায়গায়, বর্তমান স্থাপনায় কী হবে।