সংবাদচর্চা রিপোর্ট
আত্মগোনে থেকে ও নারায়নগঞ্জ জেলা এবং থানা শাখার বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনে অর্থ লেনদেনের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি আর গোপন নেই। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানার সাথে কমিটির বিষয় নিয়ে আলাপচারিতার একটি অডিও ইতিমধ্যেই সংগঠনটির বিভিন্ন গ্রুপে ঘুরে ফিরছে।
যাতে জুয়েল রানা কে উদ্দেশ্যে করে থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটিতে পদ লাভের আশায় এক যুবককে বলতে শুনা যায়,”কমিটির জন্য আপাতত আমি একলাখ টাকা দিতে পারবো। তবে তা একসাথে পারবোনা। পঞ্চাশ হাজার টাকা ক্যাশ(নগদ) আর একটা চেক দিবো”
তাছাড়া ফতুল্লাঞ্চলের সাংগঠনিক দ্ধায়িত্বপ্রাপ্ত দাবী কারী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা দীপক কুমার ভৌমিকের বিরুদ্ধে ও অর্থ লেনদেন করার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটি ও জেলা যুবলীগের কমিটিতে দুটি পদের জন্য ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে কমিটি বানিজ্যের বিষয়টি কেন্দ্রীয় শির্ষ নেতারা জেনে যাওয়ায় চলতি মাসে জেলা যুবলীগ এবং ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির ঘোষনার কথা শুনা গেলেও আপাতত তা আর হচ্ছেনা বলেই মনে করছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির একাধিক সূত্র।
এছাড়া জেলা যুবলীগ কমিটি নিয়ে ইতিমধ্যে আরো একটি সমিকরণ তৈরি হয়েছে। যেখানে জেলা যুবলীগ কমিটির শির্ষ পদে এতোদিন একক ভাবে সাফায়াত আলম সানীর নাম শোনা গেলেও নতুন করে একই পদের জন্য আটঘাট নেমে মাঠে নেমেছেন রাসেল নামে এক নেতা। এছাড়া মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদের জন্য মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি,এম আরাফাত কেন্দ্রীয় ভাবে জোড় লবিং শুরু করেছেন। জি,এম,আরাফাতের প্রতি নাসিকের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভি’র সমর্থন রয়েছে এমনটাই শোনা যাচ্ছে । এছাড়া তাকে সমর্থম জোগাচ্ছেন সাবেক সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু এবং কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউছার আহম্মেদ পলাশ। এই তিন শির্ষ প্রভাবশালীর আর্শীবাদে শির্ষ পদের লড়াইয়ে আরাফাত বেশ শক্ত অবস্থানেই রয়েছে বলে মনে করছেন দলটির একাধিক মহল।
রাজনৈতিক সংকট, নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা ও সাংগঠনিক বিপর্যয়ের মধ্যেও কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই সংগঠনটির সর্ব মহলে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগ অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানার সঙ্গে আড়াইহাজার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতাকে বড় পদ পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে এক লাখ টাকা লেনদেনের কথোপকথনের একটি রেকর্ডিং সামনে এসেছে।
এ ছাড়া ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শির্ষ পদটির জন্য মোটা অংকের টাকা লেনদেনের গুঞ্জন রয়েছে জেলার শির্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে।
জেলা যুবলীগের কমিটি বানিজ্যের ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় হাসের মাংস রুটি বিক্রি করার একটি রেস্টুরেন্টে বসে লেনদেন হয় বলে হয়।
তাছাড়া বিভিন্ন জনের নিকট থেকে পদ লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়েও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে দীপক কুমার ভৌমিকের বিরুদ্ধে। সূত্রটির মতে ইতিমধ্যেই দীপক কুমার ভৌমিক কমিটি বানিজ্যের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন জনের নিকট থেকে। আর এ বিষয়টি তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় অনেকেি জেনে গেছেন। কারন অনলাইন প্লাট ফর্মে যখন বিভিন্ন গ্রপে আলোচনা হয় তা উম্মুক্ত আলোচনা হয়। সূত্রটির দাবী সাংগঠনিক আলোচনার চাইতে বিভিন্ন নালিশ,অভিযোগ,দোষারোপ নিয়েই বেশী আলোচনা হয়। ফলে গোপন বলে আর কিছুই থাকেনা।
অপরদিকে গত ৮ থেকে ১০ দিনের ব্যবধানে
ছাত্রলীগের দুই দফা বর্ধিত সভার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি গঠন নিয়ে অনলাইন মাধ্যম টেলিগ্রামে আলোচনা হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা যায়। দাবি করা হচ্ছে ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান উপস্থিত ছিলেন।
তৃণমূলের কয়েকজন কর্মীর অভিযোগ, অর্থনৈতিক সামর্থ্য না থাকলে কমিটিতে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের প্রশ্ন—রাজনৈতিক দুঃসময়ে আদর্শ ও ত্যাগের মূল্যায়নের বদলে অর্থের প্রভাব কেন প্রাধান্য পাবে?
একাধিক মহলের মতে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতি অতীত থেকেই বিভক্ত। সেই বিভক্তি ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে চরম আকারে রূপ নেই, দুটি বলয় ভেঙে এখন ৫/৭ টি বলয় এ পরিণত হয়েছে। অতীতে যেসব নেতারা অবৈধভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে তারাই এখন টাকার বিনিময়ে নিজেদের অনুসারীদের কমিটির শির্ষ পদে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাই যোগ্যতা, ব্যক্তি ইমেজ এবং দলের প্রতি নিবেদিত হওয়া এখন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সংগঠনটির শির্ষ মহলের একটি সূত্র জানায়, নারায়নগঞ্জের ক্ষেত্রে কমিটি বানিজ্যের বিষয়টি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। ফলে সহসাই কমিটি ঘোষনা করা হবেনা। ডিসেম্বর মাসে নেত্রীর আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নেত্রী আসারন পর কমিটিগুলো দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রটি মনে করছেন।
আ.লীগ-অঙ্গ সংগঠনের কমিটি নিয়ে আত্মগোপনে থেকেও নেতাদের দরকষাকষি