, ,

পাখির কলকাকলিতে প্রাণবন্ত লক্ষ্মীপুরের সরকারি অফিসপাড়া

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফেরার পথে লক্ষ্মীপুরের সরকারি অফিসপাড়ার মনোরম পরিবেশ পথচারীদের ক্লান্তি দূর করে দেয়। দুপুর গড়িয়ে বিকাল নামতেই ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির কিচিরমিচির শব্দে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। ঢাকা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের ঝুমুর এলাকায় অবস্থিত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা জজকোর্ট, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আশেপাশের গাছগুলোতে পাখিদের এমন বিচরণ প্রতিদিনের চিরচেনা দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের ওপরও এদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে শীত মৌসুমে সাইবেরিয়া থেকে আসা অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে এলাকাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তাদের এমন উপস্থিতিকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। আমাদের এখানে গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ও তারে বসে এরা।

প্রকৃতি ও পাখি সংরক্ষণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভেতরে বিভিন্ন গাছে শতাধিক পাখির কৃত্রিম বাসা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে রাত কাটাতে পারে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা জানান, পর্যাপ্ত বাসস্থানের অভাবে পাখিগুলো এতদিন গাছের ডালে রাত কাটাত। বর্তমানে এই কৃত্রিম বাসাগুলোর মাধ্যমে তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে শহরের অন্যান্য স্থানেও পাখিদের জন্য এমন ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন, পাখিদের বিচরণে অসাধারণ মুহূর্ত তৈরি হয়। হাজার হাজার পাখি উড়ে এসে আশপাশের গাছগুলোয় বসে। বিশেষ করে শীতের সময়টিতে এসব পাখি আসে।

অফিসপাড়ার এই পরিবেশ নিয়ে স্থানীয়রা ও কর্মীরা ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করছেন। স্থানীয় পথচারীদের মতে, বিকালবেলা এই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় হাজার হাজার পাখির কিচিরমিচির শব্দে এক ভিন্নরকম প্রশান্তি অনুভব হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, তাদের চাকরির কর্মস্থলে প্রতিদিন এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করাটা দারুণ এক অভিজ্ঞতা।

পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন মহল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পর্যায়ে এমন সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের ফলে পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলা সম্ভব হবে। প্রকৃতি সংরক্ষণে প্রশাসনের এই উদ্যোগ সবার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করতে পারে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে পাখি ও প্রকৃতি সুরক্ষিত থাকে। সন্ধ্যার আগে কিচিরমিচি করে এবং সন্ধ্যার পর নিরিবিলি থাকে।