, ,

ইরান সীমান্তে ইসরাইলের এক ডজন যুদ্ধবিমান, তীব্র উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সীমান্ত পর্যন্ত উড্ডয়ন করে ফিরে এসেছে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর এক ডজন যুদ্ধবিমান। গত সোমবারে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি মাঝআকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও অংশ নেয়। ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ইসরাইল ও ওয়াশিংটনের নীতিপরির্ধকদের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার খবর প্রকাশের পরই এই রহস্যজনক সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলো। সূত্রগুলোর দাবি, অভিযান শুরুর আগেই ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি জানিয়েছিল। এমন এক সময়ে এই সামরিক তৎপরতা চালানো হলো, যখন ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজ দেশের ঘাঁটি থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে গিয়ে ইসরাইল বিমানবাহিনীর এই তৎপরতার প্রধান লক্ষ্য ছিল তেহরানকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা দেখানো এবং সতর্ক বার্তা পাঠানো। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সাম্প্রতিক ইসরাইল সফরের সঙ্গে এই সামরিক মহড়ার কোনো সম্পর্ক ছিল না। উল্লেখ্য, সফরের দিনে ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

সূত্রগুলো জানায়, ইসরাইলি ফাইটার জেটগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানি সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছায়। উড্ডয়নের এই পথটি সাধারণত ইরানে সম্ভাব্য প্রত্যক্ষ হামলার জন্য নির্ধারিত রুটগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। তবে সীমান্তে পৌঁছানোর পরপরই বিমানগুলো দিক পরিবর্তন করে নিরাপদে ইসরাইলি ঘাঁটিতে ফিরে আসে। মার্কিন ও ইসরাইলি আধিকারিকদের একটি অংশ এটিকে নিয়মিত সামরিক মহড়া বলে দাবি করে জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ইরান যেন ইসরাইলে কোনো ধরনের হামলা না চালায়, সেই সংকেত দেওয়াও এর অন্যতম উদ্দেশ্যে ছিল। ওয়াশিংটনকে আগেই এই প্রশিক্ষণ মহড়ার বিষয়ে অবহিত করেছিল তেল আবিব।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরাইল আগে থেকেই জানত যে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই যুদ্ধবিমানগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, ইসরাইলের হয়তো একটি গোপন হিসাব ছিল যে ইরান যেন বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, যাতে করে তেহরানের সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর একটি শক্ত অজুহাত তৈরি করা সম্ভব হয়। ইরান যদি যুদ্ধবিমানগুলোকে আসন্ন হামলার প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করে পাল্টা পদক্ষেপ নিত, তাহলে পরিস্থিতি নতুন করে যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারত। তবে অভিযানটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে ভিন্ন ধরনের সন্দেহও তৈরি হয়েছে।