কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আজগরা বাজারসংলগ্ন নাওটি স্টেশনের আউটার এলাকায় বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কর্ণফুলী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের তিনটি চাকাসহ পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন যাত্রী আহত হন, যারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন পৌঁছানোর পর উদ্ধারকাজ শুরু হয়, যা আজ বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার দিকে সম্পন্ন হয়। এরপর সকাল সাতটায় ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজও শেষ করা হয়। তাঁরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। কুমিল্লায় কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের তিন বগি লাইনচ্যুত, আতঙ্কিত যাত্রীরা।
লাইনটি ট্রেন চলাচলের জন্য উপযোগী ঘোষণা করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশনমাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া আজ সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে জানিয়েছিলেন যে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা চট্টলা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনাস্থল দিয়ে যাবে। তবে সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে চট্টলা এক্সপ্রেস এবং ১০টা ৪৮ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস লাকসাম জংশন পার হলেও দুর্ঘটনাস্থল অতিক্রম করেছে চট্টগ্রামমুখী ডাউনলাইন ব্যবহার করেই। বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকামুখী আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
জংশন সূত্র জানায়, সকাল সাতটায় মেরামতের কাজ শেষ হলেও দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের একটি বগি তখনও ঘটনাস্থলে পড়ে থাকায় আপলাইন দিয়ে ট্রেন চালানো সম্ভব হয়নি। বগিটি সরিয়ে নিতে নাঙ্গলকোট থেকে একটি ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছে। এর ফলে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের এই অংশে গত প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ডাউনলাইন দিয়ে দুই দিকের ট্রেন চলাচল সচল রাখা হলেও এতে যাত্রীদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের বিরুদ্ধে। মেরামতের কাজ চললেও এ বিষয়ে কন্ট্রোল রুমকে অবহিত না করায় উপসহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রেলপথ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন ওই লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচলে কোনো বাধা নেই।