নিজস্ব প্রতিবেদক:
রূপগঞ্জ উপজেলায় মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া গেছে। এসময় মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে ছোড়া হয় ৩৮ রাউন্ড গুলি।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন। এর আগে বৃহস্পতিবার উপজেলার তারাবো পৌরসভার তারাবো বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষ চলাকালে রনি মিয়া (২৪) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে তারাবো পৌরসভার উত্তরপাড়া এলাকার শ্রাবণ ও রুবেল গ্রুপের সঙ্গে দক্ষিণপাড়া এলাকার নাজমুল ও নবী ভান্ডারির গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরে ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও একপর্যায়ে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে দুপক্ষ অন্তত ৫ থেকে ৬ রাউন্ড পাল্টাপাল্টি গুলি ছোড়ে এবং ১৩ থেকে ১৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ছয়জন আহত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের লোকজন বাড়িঘর, দোকানপাট ও যানবাহনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা তারাবো বাজারের তিনটি ফলের দোকান ও একটি রেস্টুরেন্টসহ তিনটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং লুটপাট করে। পরে রাত পৌনে ১২টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে ৩৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয় পুলিশ। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো অভিযোগ কিংবা মামলা দায়ের হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

