, ,

সরকারি তৃতীয় শ্রেণীর ৮ লাখ কর্মচারীর পদোন্নতির উদ্যোগ


অনলাইন ডেস্ক : সরকার বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় ও বিভিন্ন অধিদফতর, পরিদফতর, কর্পোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণীর প্রায় ৮ লাখ কর্মচারীকে পদোন্নতি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিপূর্বে সচিবালয়, হাইকোর্ট, সংসদ, নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত বিভাগসমূহে ১১-১৬ গ্রেডভুক্ত (তৃতীয় শ্রেণী) কর্মরত কর্মচারীদের ১০ গ্রেডে (দ্বিতীয় শ্রেণী) পদোন্নতি দেয়া হয়। কিন্তু ইউএনও, ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার ও বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, করপোরেশন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১১-১৬ গ্রেডভুক্ত প্রায় ৮ লাখ কর্মচারীকে গত ৪৬ বছরে কোনো পদোন্নতি দেয়া হয়নি। ফলে ওসব কর্মকর্তা ১৬তম গ্রেডে (তৃতীয় শ্রেণী) যোগদান করে একই গ্রেড থেকেই অবসরে যাচ্ছেন। আর সচিবালয়, হাইকোর্ট, সংসদ, নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত বিভাগসমূহে ১৬তম গ্রেডে যোগদান করে অনেকে সহকারী সচিব হয়ে চাকরি থেকে অবসর নিচ্ছেন। এমন বৈষম্যের কারণে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছে। অথচ একই সঙ্গে দেশের সব প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের অভিন্ন পদোন্নতির নীতিমালা করার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এক দেশের কর্মচারীদের জন্য দুই নীতি থাকায় যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মচারী। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে তৃতীয় শ্রেণীর (১১-১৬ গ্রেড) পদে কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা ৮ লাখ ৪০ হাজার ২৩৮ জন। তারমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার কর্মচারী রয়েছেন সচিবালয়, হাইকোর্ট, সংসদ, নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত বিভাগসমূহে। তার বাইরে ওই পদে রয়েছেন প্রায় ৮ লাখ কর্মচারী। সরকারের উচ্চপদের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি পদ খালি না থাকলেও হয়। কিন্তু কর্মচারীদের পদ খালি থেকেও পদোন্নতি হয় না।

এমন অবস্থায় এবার ইউএনও, ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার ও বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, করপোরেশন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের পদ নাম পরিবর্তন ও পদোন্নতির জন্য তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে সরকার। গত ১৩ আগস্ট কর্মচারীদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয় পদমর্যাদা উন্নীতকরণ এবং পদ নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত গঠিত কমিটির সভায়। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো চিঠিতে ১১-১৬ গ্রেডভুক্ত (তৃতীয় শ্রেণী) কর্মচারীদের সংখ্যা এবং ওসব গ্রেডে কর্মচারীদের পদমর্যাদা উন্নীতকরণ করা হলে এর আর্থিক সংশ্লেষ কত হবে সে সব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়,  জনপ্রশাসন থেকে পাঠানো প্রস্তাবে ১১ গ্রেডের (১২৫০০-৩০২৩০) কর্মকর্তাদের ১০ গ্রেডে (১৬০০০-৩৮৬৪০) উন্নীত করার জন্য, তাছাড়া ১২ গ্রেড (১১৩০০-২৭৩০০) থেকে ১০ গ্রেড (১৬০০০-৩৮৬৪০), ১৩ গ্রেড (১১০০০-২৬৫৯০) থেকে ১১ গ্রেডে (১২৫০০-৩০২৩০), ১৪ গ্রেড (১০২০০-২৪৬৮০) থেকে ১২ গ্রেডে (১১৩০০-২৭৩০০), ১৫ গ্রেড (৯৭০০-২৩৪৯০) থেকে ১৩ গ্রেড (১১০০০-২৬৫৯০), ১৬ গ্রেড (৯৩০০-২২৪৯০) থেকে ১৪ গ্রেড (১০২০০-২৪৬৮০) উন্নীত করা কথা বলা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে সব গ্রেডের জন্য অতিরিক্ত অর্থ লাগবে ৩৪ হাজার ৮৪০ টাকা। তাতে ৮ লাগ কর্মচারীর জন্য প্রতি মাসে অতিরিক্ত অর্থ লাগবে ২ হাজার ৭৮৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১২০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এরপর আবার এতো বেশি কর্মচারীর পদোন্নতি দেয়া হলে অনেক অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। তাই এটি বাস্তবায়ন হতে অনেক সময় লাগবে।