নিজস্ব প্রতিবেদক
পোষাক খাতকে অশান্ত করতে শ্রমিকদের কে ব্যবহার করতে শুরু করেছে একটি স্বার্থম্বেশী মহল।নানা কৌশল অবলম্বন করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেস্টা করে ব্যার্থ হয়ে এবার পোষাক খাতের শ্রমিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়।
ইতিমধ্যেই চক্রটি শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্ভর বেশ কয়েকটি শিল্পাঞ্চল টার্গেট করেছে। প্রথমেই চক্রটি আশুলিয়ায় শ্রমিকদের নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা সহ নানা দাবী নিয়ে বিভিন্ন পোষাক তৈরির কারখানার শ্রমিকরা গত তিন ধরে ঢাকার আশুলিয়া,গাজিপুর,
নারায়নগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্থানে কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের নামে দেশজুড়ে আরজকতা সৃস্টি করতে চাইছে।কিন্ত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকে জেনে যাওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে সরকার।
শনিবার আন্দোলনে নামে ঢাকার আশুলিয়ায় কয়েক হাজার পোষাক তৈরি কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক। সেখানে বেশ কয়েকটি কারখানা ভাংচুর করা হয়। প্রায় ত্রিশটি পোষাক কারখানা সাথে সাথেই ছুটি ঘোষনা করে দেয়।
তথ্য মতে, পাট শিল্পের মতো পোষাক খাতকে ধ্বংস করতে অন্তরালে থেকে শ্রমিকদের লেলিয়ে দিয়ে মাঠে নামিয়েছে।
শুধু মাত্র ইন্ধনই নয় শ্রমিকদের সাথে বহিরাগতরাও আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে বলে নির্ভরশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে সূত্রটির দাবী বহিরাগতারাই বেশ আগ্রাসী ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলো।
রোববার ও ঢাকাতে তান্ডব লিলা চালায়। সেখানে শ্রমিকদের সাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের লোকজনদেরন কেও দেখতে পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
অপরদিকে নারায়নগঞ্জে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামবে এবং তাদের কে সহায়তা করবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের নেতা,কর্মী-সমর্থকেরা এমন একটি সংবাদ জেলার গোয়েন্দা সংস্থা গুলোর মাঠ পর্যায়ে থাকা সদস্যরা কয়েকদিন পূর্বে আচ করতে পেরে জেলা প্রশাসনের সকল পর্যায়ে অবগত করেছিলো।
স্থানীয় প্রশাসন বেশ তৎপর হয়ে তথাকথিত শ্রমিক নেতাদের সন্ধান সহ ইন্ধনদাতাদের খোজেঁ নামে। ইতিমধ্যেই সংস্থাগুলো বেশ কয়েকজন ইন্ধনদাতা ও অর্থের যোগানদাতাদের চিন্থিত করছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় পর্যায় থেকে শুর করে ঢাকা এবং বিদেশে আত্নগোপনে থাকা একাধিক জনকে অর্থের জোগানদাতা হিসেবে চিন্থিত করেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বা আশংকা যে সঠিক ছিলো তা রোববারের ঢাকা-নারায়নগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনেই প্রমাণিত হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করলে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
চার ঘণ্টার ও বেশী সময় ধরে রাজপথ দখলে রেখে নিজেদের দাবি আদায়ে অনড় পোশাকশ্রমিকরা। তাঁদের অবরোধে কার্যত অচল হয়ে পড়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক। ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ। প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক ছাড়লেও আন্দোলন থেকে পিছু হটেননি শ্রমিকরা। এবার ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবিতে দিয়েছেন ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম।
সিসিফুটেজে ও বিভিন্ন মাধ্যমে আসা ছবি দেখে শ্রমিকদের সাথে আন্দোলনে অংশ নেওয়া তথাকথিত শ্রমিকদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্ব মহলে। খোদ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাদের বিষয়ে খোজ খবর নেয়া হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও তে দেখা যায়,,মিনি ট্রাকে করে লাঠিসোঁটা হাতে একদল যুবককে আন্দোলনস্থলের দিকে নেওয়া হচ্ছে। ভিডিও ধারণকারী এক যুবকের গলায় ইউরোটেক্স নিটওয়্যার নামের একটি পোশাক কারখানার পরিচয়পত্র ঝুলতে দেখা যায়। কারখানাটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত।
ভিডিওতে পিকআপে থাকা অন্য ব্যক্তিরা ওই কারখানার শ্রমিক কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের আন্দোলনস্থলে পাঠানোর উদ্দেশ্য নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
তাছাড়া সাদা কাবুলি পরা এক যুবকের নেতৃত্ব, কটি পরা, টি শার্ট পরা এরকম বহু জনদের উপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এডঃ বারী ভুইয়া মন্তব্য করেন, “স্বৈরাচার এবং ৭১ এর পরাজিত শক্তি একজোট হয়ে দেশের গার্মেন্টস সেক্টরকে ধ্বংস করার জন্য দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতেছে।গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে মন্তব্য করেন,নারায়ণগঞ্জে অরাজকতার ইন্ধন জুগিয়েছেন ফতুল্লা কাঠের পুল এলাকার মেট্রো গার্মেন্টসের মালিক ও ফতুল্লার কায়েমপুরে ফকির নিট ওয়ার্সের( MD) পরিচালক।তাদের কে আওয়ামী দোসর দাবী করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি হয়ত গতকালকের। আজকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের টহল দল মাঠে কাজ করছে।