আজ বৃহস্পতিবার, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

রোহিঙ্গাদের চেয়ে অবহেলিত না.গঞ্জের ছিন্নমূল!

সংবাদচর্চা রিপোট
সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে, যাদের অস্তিত্ব আছে কিন্তু জায়গা নেই। দিনের শেষে নগরে যখন রাত্রি নামে তখন নগরবাসী ব্যতিব্যস্ত হয়ে নীড়ের খোঁজে ঘরে ফেরে। যাদের মাথার তলায় ছাদ নেই, সেই বাস্তুহীন, ছিন্নমূল মানুষেরা নীড় রচনা করার জন্য জায়গা খুঁজে নেয় সুরম্য অট্টালিকার বারান্দা, ফুটপাথ, নয়তো পথের ধারে। এদের দেখা মেলে নগরের সর্বত্র। বেঁচে থাকার সব উপকরণ তো নয়ই, শীত নিবারণের প্রয়োজনীয় বস্ত্রও মেলে না এসব বাস্তুহীন মানুষের।

নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাস স্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন, ফুটপাত সহ একাধিক স্থানে শতাধিক ছিন্নমুল মানুষের ছাঁদ বিহীন আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। রোদ, বৃষ্টি, প্রবল শৈত প্রবাহকে অপেক্ষা করে এ সকল ছিন্নমুল মানুষগুলো ক্ষুদার্থ অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা বলে থাকেন নারায়ণগঞ্জ হলো আওয়ামী লীগের ঘাটি। এই নগরীর প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান সভা-সমাবেশের মানুষের পাশে থাকার কথা বলেছেন। তাদের সহায়তায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাস্তাঘাট ব্যাপক উন্নয়ন স্বাধীত হয়েছে। তবে তাদের ও এই শহরের বৃত্তবান মানুষদের দৃষ্টি ও সহায়তার বাহিরে রয়েছে এ সকল ছিন্নমুল মানুষগুলো। গতকাল ঠান্ডা বাতাশের আগমন ঘটেছে নগরীর অলি-গলিতে। সকাল থেকে টের পাওয়া যায় শীতের শীতল পরশ। শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে চলেছে সড়কের ফুটপাতে থাকা ভাসমান মানুষের দুর্ভোগও।

অপর দিকে নারায়ণগঞ্জের অলি-গলিতে চোখ বোলালেই দেখা মেলে একাধিক শিশুর। ওরা আর সব সাধারণ শিশুর মতো নয়। এ বয়সে ওদের কেউ মায়ের কোলে, কেউ স্কুলে থাকতে পারত। থাকতে পারথ পরিবারের অটুট বন্ধনে। কিন্তু নিয়তির ফের এসব কিছুই পাওয়া হয় না ওদের। ওরা রাস্তায় ঘুমায়। পথে পথে ঘোরে। ক্ষুধার দায়ে রাস্তায়ই বেছে নেয় জীবিকার পথ। ওরা টোকাই, ওরা ছিন্নমূল পথশিশু। কেনই বা ওরা পথশিশু? ওদের জন্য রাষ্ট্র-সমাজের করণীয় কী? সামাজিক এ সমস্যার সমাধানই বা কোন পথে?

বিভিন্ন বোদ্ধামহলের দৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি এখন জনবান্ধব নয়। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আসল উদ্দেশ্যে রাজমসনদটি দখল করা। বড় দলগুলোর মুখ্য নেতাদের মূল আগ্রহ থাকে মন্ত্রিত্বজাতীয় বড় ক্ষমতার পদগুলো ভোগদখলে। ব্যক্তিগত ক্ষমতা, মর্যাদা, স্বার্থ ও সুবিধার কাছে জনসেবা ও জনস্বার্থ সামান্যই প্রাধান্য পায়।

বক্তৃতা ও ব্যস্ততা যদি দেশ ও মানুষের জন্য হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের রোজকার দিন যাপন ও প্রাণ ধারণের সমস্যাগুলোর ব্যাপারেও সমানভাবে সোচ্চার হওয়া দরকার। স্থানীয় ও সামাজিক সমস্যার ব্যাপারে রাজনীতিকদের এই ঔদাসীন্য সাধারণ মানুষের মনে রাজনীতি সম্পর্কে এক ধরনের বীতশ্রদ্ধার জন্ম দিয়েছে।

মধ্যম আয়ের দেশ এখন বাংলাদেশ। আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার তথা আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ অপেক্ষা, সংগ্রাম আর শত ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব মানচিত্রে আলোচিত এক রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো সাথে পাল্লা দিয়ে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রত্যাশা আর বাঙালি জাতির নিরলস পরিশ্রমের ফল স্বরুপ আজ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছে। এত শত অর্জন তখনী শ্লান হয়ে যায় যখন এদেশের সড়কের দু’ধারে ব্যস্তচিত্ত মানুষগুলো টান হয়ে শুয়ে থাকে।

প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন, মুক্ত চিন্তাভাবনা, ধর্মনিরপেক্ষতা আর মানবতার নিরিখে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশত্যাগী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের বড় বড় দেশের নেতাদের বাঁচিয়ে দিয়েছেন। দুশ্চিন্তামুক্ত করেছেন। কেননা, তা না হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর একটা বড় গণহত্যা ঘটে যেত। তবে বাংলাদেশের ছিন্নমূল মানুষগুলো ব্যস্তচিত্ত রোহিঙ্গাদের চেয়ে হতভাগা। বার্মা থেকে বিতারিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভাবছে বিশ্ব, ভাবছে বাংলাদেশ কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের ছিন্নমুল মানুষদের নিয়ে কি ভাবছে সরকর তথা বিশ্ব?

বার্মা সেনাদের হামলার ভয়ে প্রাণ বাচাতে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয়ে রয়েছে। যেমনটা ১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ বাঙালি প্রাণ রক্ষার্থে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের আশ্রয়ে ছিল। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ১৬ কোটি বাঙালির খাবারের ব্যবস্থা যেহেতু করছি সেহেতু আরো ১০ লক্ষ লোকের খাবারের ব্যবস্থাও আমরা করতে পারবো।