আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে পুরো শহরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রংপুর থেকে দুপুরের দিকে বিমানযোগে রাজশাহী পৌঁছার পর তিনি সরাসরি নগরীর ধর্মসভা মন্দিরে যাবেন। সেখানে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনরত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন সরকারপ্রধান। এই সফরকে রাজশাহীর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আনন্দদায়ক হিসেবে দেখছেন। মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিরতি নেবেন। এরপর বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি বিকেলের জনসভাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহীতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. মিজানুর রহমান মিনু জনসভাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গতকাল সোমবার জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, দুর্গাপূজার এই সময়ে সরকারপ্রধানের সফর নগরবাসীকে নতুন প্রাণশক্তি জোগাবে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি একটি বিশেষ প্রাপ্তি। সফরটি যাতে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ হয়, সেজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সম্মেলনকক্ষে প্রশাসনিক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে এই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা ও নাগরিক সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা। দীর্ঘদিন ধরে এখানে শিল্পায়নের অভাব ও কর্মসংস্থানের সংকট প্রকট। উচ্চশিক্ষা শেষে বেকার তরুণদের চাকরির প্রয়োজনে অন্য জেলায় পাড়ি জমাতে হয়। স্থানীয়ভাবে শিল্পকারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন রাজশাহীবাসী। পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা চান তারা। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নও রাজশাহীবাসীর অন্যতম প্রত্যাশা। উচ্চশিক্ষা শেষ করে অনেক তরুণকে কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় যেতে হয়।
নগরীর দৈনন্দিন নাগরিক সমস্যাগুলোর সমাধানও জনসভা থেকে আশা করছেন স্থানীয়রা। এর মধ্যে অন্যতম হলো যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। একইসাথে সড়কের মানোন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়নকাজগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে নগরবাসীর। শিক্ষা ও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব মেটাতে তরুণদের জন্য স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর জনসভার বক্তব্য থেকে এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের রূপরেখা উঠে আসবে। কেবল একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং এই সফর রাজশাহীর শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে—এমনটাই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই নতুন প্রত্যাশা ও উৎসবের আমেজ এখন পুরো নগরজুড়ে স্পষ্ট।