, ,

মুর্খ মহাজনদের পে-পো

নাদিম হাসান :

রিকশায় মেশিন লাগানো হয়েছে, বেড়েছে গতি। আয় বেড়েছে রিকশা মালিকের এমনকি চালকেরও। তবে তারা যন্ত্রনায় ফেলেছে মানুষকে। অতীতের টুং টাং মিষ্টি শব্দের বেল বাদ দিয়ে রিকশাগুলোতে এখন এমন একটি হর্ন লাগানো হয়েছে যা সারাক্ষন পে-পো করে। এ শব্দের যন্ত্রনায় অস্থির পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে শহর তথা সারা জেলার মানুষ। সচেতন মহল বলছেন, রিকশা মহাজনদের মুর্খতার কারনে এমন যন্ত্রনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা নিজেদের ডিজিটাল করতে এ হর্ন লাগায়। শব্দ দুষণের এ মহামারী নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রশাসন কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
শহরে ইজিবাইকে সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে হর্নের মাত্রাও। হর্নের উচ্চমাত্রার শব্দে পথচলা যেন দায় । শব্দ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পেতে আলাদা নীতিমালা করা হলেও তা মানছে না গাড়ি চালকরাই। আর রিকশাচালকরা তো তোয়াক্কাই করছে না।
বিভিন্ন মানুষের কথা বলে জানা গেছে, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের হর্নের কারনে রাস্তার পাশে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা ও মসজিদে নামাজের ব্যাঘাত ঘটে। রাত-দিন হর্নের কর্কশ আওয়াজে বিরক্ত হলে মানুষের যেন কিছুই করার নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, শহর পাড়া মহল্লার অলিতে-গলিতে দিনে রাতে ইজিবাইকগুলো প্রয়োজনে ও অপ্রয়োজনে জোড়ে হর্ন বাজায়। বিশেষ করে সিগন্যাল কিংবা জ্যামে পড়লে একসঙ্গে অনেক রিকশা হর্ন বাজানো শুরু করে। তখন বাধ্য হয়ে অনেকে কানে হাত দেয়।
শহরের গলাচীপা এলাকার একজন মুদি দোকানদার জানান, ব্যাটারি চালিক রিকশা ও অটো চালকরা কোন আইন না জানায় ঘন ঘন হর্ন বাজায়। কেউ কেউ হর্ন সোজা না রেখে এক পাশে রাখে। এতে করে ওই সাইটের দোকানদার ও পথচারীদের কানের বারোটা বাজে।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ.বি সিদ্দিক বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। শব্দ দূষণের কারণে স্বাস্থ্যগত এবং সামাজিক ক্ষতির পরিমাণ অনেক বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়েও বেশি। তাই একে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকস্মিক তীব্র শব্দে মানুষ আংশিক বা সম্পূর্ণ বধির হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন মাত্রাতিরিক্ত শব্দের মধ্যে অবস্থান করলে কানে শোনার ক্ষমতা লোপ পায়। যা আর ফিরে পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত শব্দ দূষণের ফলে বাড়ে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ , ফুসফুসজনিত জটিলতা , মস্তিষ্ক বিকৃতি, স্মরণশক্তি হ্রাস, এছাড়া হৃৎপি ও মস্তিষ্কে অক্সিজেন কমে যেতে পারে। এতে শ্বাসকষ্ট, মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, দিক ভুলে যাওয়া, দহের নিয়ন্ত্রণ হারানো, মানসিক ক্ষতিসহ নানা সমস্যা হতে পাড়ে।
পরিবেশ অধিদফতরের গত বছরের জরিপে দেখা যায়, দেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় শব্দের মানমাত্রা ১৩০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে গেছে। যা স্বাভাবিক মাত্রার চাইতে আড়াই থেকে তিনগুন বেশি। মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ১২% মানুষ শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে বলে পরিবেশ অধিদফতরের সাম্প্রতিক জরিপে উঠে আসে।
সূত্রমতে, শব্দ দূষণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে ২০০৬ সালের শব্দদূষণ বিধিমালা প্রনয়ণ করা হয়। বিধি অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়ের সামনে এবং আবাসিক এলাকায় হর্ণ বাজানো, মাইকিং করা সেইসঙ্গে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে জোড়ে শব্দ সৃষ্টি করা আইনত দ-নীয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহ্ উদ্দিন আহমেদ জানান, ইজিবাইক বা অন্যান্য যানবাহন কারনে বা অকারনে একসাথে হর্ন বাজিয়ে যদি মানুষের আপদ সৃষ্টি করে। তাহলে পুলিশ আইনত ব্যবস্থা নিবে।