সংবাদচর্চা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূইগড়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম (২৫)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী ও একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে (৩০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার ভূইগড় কবরস্থান সড়কের দেলোয়ারের তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল) মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ফারজানার শয়নকক্ষের বিছানা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে পারিবারিক কলহ ও স্বামীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যার কথা লেখা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত ফারজানা ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মুসুলি বাড়ি এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে।
ফারজানার বড় ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালে পারিবারিক সম্মতিতে নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নাজমুল দীর্ঘদিন বেকার থাকায় তাঁদের পরিবারই দম্পতির সংসারের ব্যয় বহন করত। প্রায় দেড় বছর আগে নাজমুল চাকরি পাওয়ার পর মুন্সিগঞ্জে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, এরপর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফারজানাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো।
আরিফুল ইসলাম আরও জানান, প্রায় দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে বর্তমান ঠিকানায় আসেন। শনিবার রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় শয়নকক্ষের বিছানা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আটক নাজমুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার কচুয়া থানার নুরপুর গ্রামের তালুকদার বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।