১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, সকাল ৬:১২

১ হাজার পরিবার পানিবন্দি

#বন্যার আশংকায় আতংকিত মানুষ

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:

করোনা ভাইরাস নিয়ে ভয় কিছুটা কমলেও নতুন করে বন্যা নিয়ে আতংকে আছে মানুষ। বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর পানির বৃদ্ধি পাওয়ায় এ আতংক আরও বেড়েছে। ইতিমধ্যে সদর উপজেলার ফতুল্লার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার ঘর বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানির বৃদ্ধির ফলে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় জীবন যাপন করছে। এছাড়াও পানির স্রোতে দুটি এলাকার নির্মানাধীন ভবন ধ্বসে পানির নিচে তলিয়ে যায়।

মঙ্গলবার রাতে পানির স্রোতে ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের উত্তর নরসিংপুরের সামসুল আলম মোড় এলাকার রাস্তা ভেঙ্গে গ্রামে পানি প্রবেশ করে ৫/৬ শ ঘর বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে করে উত্তর নরসিংপুর এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। পরিবার পরিজন নিয়ে নারী-পুরুষ পানিতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে। কেউ কেউ ঘরে মাচা বেধে বসবাস করছে আবার অনেকে নিজের বাড়ি ঘর ছেড়ে একটু নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। আবার অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

মৃত রতনের স্ত্রী লাখী বেগম জানান, তার শেষ সম্বল এক তলা একটি ভবন ধ্বসে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অল্পের জন্য দুটি সন্তান নিয়ে নিজেদের জীবন নিয়ে বের হতে পেরেছেন। আর বাড়ির আসবাবপত্র পানির নিচে তলিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান এম সাইফ উল্লাহ বাদল ও প্যানেল চেয়ারম্যান শামীম আহম্মেদ পানি বন্দি লোকদের খোজখবর নেন।

আমেনা বেগম নামের এক নারী বলেন, উত্তর নরসিংপুর মাটি ভাড়ায় বসবাস করে জীবন যাপন করছি। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির স্রোতে রাস্তা ভেঙ্গে গ্রামে পানি প্রবেশ করে বন্যায় প্লাবিত হয়। আমার তিনটি ঘর পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্বামী সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেছি। নারায়ণগঞ্জে আমাদের কোন আত্মীয় স্বজন না থাকায় চুলা, হাড়ি পাতিল নিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। সরকারী ভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনি।

একই উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের পূর্ব গোপালনগর এলাকাসহ তিনটি গ্রামের দুই শতাধিক বাড়ি ঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কয়েকশ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়ে। এলাকার মানুষ ঘরের ভিতর পানি থাকায় বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়ায় অনেকে মাছা বেধে বসবাস করছে। আবার অনেকে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। এসব পরিবারের মহিলারা রান্না করতে না পাড়ায় পাশের মহল্লার কারো বাড়িতে গিয়ে রান্না করতে দেখা গেছে। অনেকে তাদের শিশু সহ তাদের সন্তানদের নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দিচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্ব গোপালনগর এলাকার মানিক মিয়ার এক তলা ভবন ধ্বসে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভবনে থাকা সকল ধরনের আসবাবপত্র ফেলে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কোন রকম জীবন রক্ষা পায় মানিক। ভবন ধ্বসে পড়ায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছে। তারা কোথায় যাবে তা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় চেয়ারম্যান শওকত আলী পানি বন্দি পরিবারের খোজখবর নিয়েছেন।
এদিকে এনায়েতনগর ইউনিয়নের তিনটি এলাকার ৪ থেকে ৫ শ’ বাড়ি ঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকশ পরিবার পানি বন্দি অবস্থায় জীবন যাপন করছে। অনেকের ঘরে কোমড় পানি, কোন বাড়িতে হাটু পানি আবার কোন বাড়ি একেবারে তলিয়ে গেছে। পানি বন্দি নারী পুরুষ হতাশা জীবন যাপন করছে। মানুষের বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়ায় অনেকে মাছা বেধে বসবাস করছে। আবার অনেকে নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এ ইউনিয়নের ধর্মগঞ্জের কয়েকটি মহল্লার কয়েকশ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়ে। আর পানি বন্দিদের খোজখবর নিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান পানি ভেঙ্গে বাড়ি বাড়ি যায়।

এছাড়াও বুধবার পানি বন্দিদের খোজখবর নেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা বারিক। তিনি পানি ভেঙ্গে পানি বন্দি লোকদের খোজখবর নেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ বাদল বলেন, বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির স্রোতে একটি রাস্তা ভেঙ্গে পানি গ্রামে প্রবেশ করে কয়েকশ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়ে। তাদের খোজখবর নেয়া হয়েছা এবং সরকারী ভাবে সাহায্য সহযোগিতার দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা বারিক বলেন, বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর পানির বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী বেষ্টিত তিনটি ইউনিয়নের কয়েকশ বাড়ি ঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি বন্দি পরিবারের খোজখবর নেয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনা করে পানি বন্দি পরিবারদের সরকারী ভাবে সাহায্য সহযোগিতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূইয়া জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় নারায়ণগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। বর্তমানে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপরে, বালু নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপরে এবং ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে। তবে বুড়িগঙ্গার পানি এখনো বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার নিচে আছে।

এসব নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টা স্থিতিশীল থাকবে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ