১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ভোর ৫:১৭

১৭ মিনিটে খুন

অ.শুভ ও রেদওয়ান আরিফ :

ভোর রাত ৪ টা ২৪ মিনিটে একটি নাম্বার থেকে ফোন করে বলা হয়, টাকা দিতে হবে নয়তো আপনার ছেলেকে বেধে রাখবো। ওই সময় ফোনে আরেকটি শব্দ হচ্ছিল ‘কাকা আমাকে মারছেন কেন’। পরে ফোন কেটে দেয়া হয়। ৪ টা ৪১ মিনিটে শেষ ফোন করে খুনিরা। ওই সময় তারা বলে, সিএনজি নিয়ে টাকা নিতে আসছি। এর পর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দুপুরে পরিচিত একজন বলেন, তোর ছেলের লাশ পুকুরে। গতকাল এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন মাসদাইর এলাকার আবু হানিফ।

প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সামনের পুকুর থেকে হানিফের ছেলে আবদুল্লাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

হানিফ আরও জানান, কাজে না যাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে আব্দুল্লাহকে বকাঝকা করেছেন তিনি। পরে সে বাসা থেকে বের হয়ে এলাকায় ঘুরাঘুরি করে। এলাকার অনেকেই তাকে রাত পর্যন্ত দেখেছেন।
মাসদাইর ঘোষের বাগ সড়কের এক চায়ের দোকানী জানান, মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে আবদুল্লাহ তার দোকান থেকে সিগারেট কিনে রিকশা নিয়ে মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় চলে যায়।

নিহতের বাবা বলেন, রাত ১২ টা ২০ মিনিটে একটি নাম্বার থেকে তার মোবাইলে ফোন আসে। তাকে বলে আপনার ছেলে ঢাকা গুলিস্থানে আছে। সে রিকশা ভাড়া দিতে পারছে না। তখন আবদুল্লার বাবা ওই ব্যক্তি কে বলেন, ওকে একটি গাড়িতে করে নারায়ণগঞ্জে পাঠাতে তিনি সব ভাড়া পরিশোধ করবেন।

নিহত আবদুল্লার ফুপাতো ভাই বলেন, রাত ৪ টা ২৪ মিনিটে একটি নাম্বার থেকে ফোন আসে। সে নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে বলে আপনার ছেলে সারা রাত সিএনজি নিয়ে ঘুরাঘুরি করেছে। ভাড়া হয়েছে ১ হাজার টাকা কিন্তু সে ভাড়া দিতে পারছেনা। তাকে আমরা বেধে রাখবো। ওই সময় ফোনে আবদুল্লাহর শব্দ শোনা যাচ্ছিল সে বলছিল ‘কাকা আপনারা আমাকে মারছেন কেন’। এমন সময় ফোন কেটে দেয়া হয়।

নিহতের ভাই আরও বলেন, রাত ৪ টা ৪১ মিনিটে শেষ ফোন করে খুনিরা। তারা ওই সময় বলে আমরা চাষাঢ়া আছি, ভাড়ার টাকা নিতে মাসদাইর আসছি। তবে তখন আবদুল্লাহর কোন শব্দ শুনতে পাইনি ফোনে। এর পর থেকে ওই ফোন নাম্বারটি বন্ধ করে রাখা হয়। ভোর সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত তাদের জন্য মাসদাইরের রাস্তায় অপেক্ষা করে আবদুল্লাহকে খুঁজতে বের হন। দুপুরে জানতে পারেন পুকুর থেকে সিএনজিসহ আবদুল্লার লাশ পাওয়া গেছে। পরিবারের ধারনা, ৪ টা ২৪ থেকে ৪ টা ৪১ মিনিট অর্থাৎ এই ১৭ মিনিটের মধ্যেই আবদুল্লাহ কে খুন করা হয়।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, ওই সড়কে থাকা সি সি ক্যামেরায় একটি ভিডিও তে দেখা গেছে ভোর সোয়া ৫ টার দিকে সিএনজিটি ঈদগাহ সড়ক পার হয়ে পুকুরের দিকে যাচ্ছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিনারুল কাজী জানান, পুকুর থেকে যুবকের লাশ উঠিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছেন তিনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তিনি কিছুই বলতে পারছেন না। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা.আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিক ভাবে বলা যাচ্ছে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলা হয়েছে। লাশের বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানান, নিহত আবদুল্লাহর বাবাকে ফোনে জানানো হয়েছিলো তার ছেলে কে নিয়ে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে আসছে। সিএনজি চালক অন্য এলকার ছিলো আসার পথে ঘটনাটি ঘটেছে। ওসি আরও বলেন, সিএনজি চালকের পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে নিহতের বাবা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এর পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ