২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ১১:২১
বিজ্ঞাপন

হাটে কত মধু!

সংবাদচর্চা অনলাইনঃ

ঢাকঢোল পিটিয়ে, দলবল নিয়েই যেকোন মূল্যেই নিতে হবে হাট। হোক না হাতাহাতি বা সংঘর্ষ, ক’দিনের পরিশ্রমেই মিলবে মোটা অঙ্ক। এ সময়ে গোবরের গন্ধও সুবাস লাগে। পরিশ্রম যা যায় যাক, কোরবানীর হাটেই যেনো মধুর চাক! হাট ইজারা নিতে বছর জুড়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা নানা তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত থাকেন। যখন পশুর হাটের ইজারার সময় চলে আসে তখন আগের চেয়ে নেতাকর্মী ও তাদের অনুগতদের প্রভাব কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ক্ষমতাসীন দলের নেতার অনুগতদের মাঝে বেধে যায় সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা।

বিগত দিনগুলোতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন অস্থায়ী হাট নিয়ে কয়েকটি পক্ষ অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়েছেন, এবারও তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি। সিডিউল বিক্রি ২য় দিনে হাতাহাতি হয়েছে দুটি পক্ষের মাঝে। এবার করোনার পরিস্থিতির কারনে সদর উপজেলায় হাটের সংখ্যা কমলেও ইজারাদারদের সংখ্যা কমেনি। তাই সিডিউল কিনা ঠেকাতে মড়িয়া হয়ে উঠেছেন তারা। কার আগে কে সিডিউল কিনবে, কার সিডিউল কে কিনা ঠেকাবেন তা নিয়ে উত্তেজনা হয়েছে উপজেলা চত্তর।

তবে আলেম সমাজের মতে, কুরবানী মানেই আত্মত্যাগের একটি বিষয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে মুসলিম জাহান কুরবানী দিয়ে দিয়ে থাকেন। আর সেই কুরবানীর পশুর হাট নিয়ে দলাদলি শ্রেয় নয়।
সরজমিনে দেখা যায়, ১৯ জুলাই রোববার সকালে সদর উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে গোগনগর ইউনিয়নের একটি হাটের সিডিউল ক্রয় নিয়ে সম্রাট বাহিনী ও আক্তার বাহিনীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বৃহস্পতিবার থেকে সিডিউল বিক্রি শুরু হয়ে সোমবার পর্যন্ত বিক্রি চলবে। এবং ২১ জুলাই মঙ্গলবার টেন্ডার উন্মুক্ত হবে বলে জানা যায়।

জানা যায়, গত বছর ৪আগষ্ট শিডিউলকে কেন্দ্র করে দুইদফা হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিডিউল কিনতে আসা শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ অনুসারিদের একজন আব্দুল মতিনকে উপজেলা চত্বরে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ফাতেমা মনির, নাসির উদ্দিন ও মনিরউদ্দিন গ্রুপের লোকজন। এ সময়ে আবু সুফিয়ানের ছেলে বাদল, মতিনকে শিডিউল কিনতে বাধা দিলে মতিন জানায়, ‘শিডিউল কেনা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। তাই কিনতে এসেছি।’ এর পরই বাদল মতিনকে উপর্যপুরি চড়-থাপ্পর দিতে শুরু করে। এ নিয়ে পলাশ ও ফাতেমা মনির গ্রুপের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু হয়ে।

এর আগে, ২০১৮ সালে ১৩ আগষ্ট সৈয়দপুর মাদবর বাড়ি নির্ধারিত অসাস্থী পশুর হাটের সিডিউল ক্রয় নিয়ে মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না ও গোগনগর ইউপি সদস্য নূর হোসেন গ্রুপের মধ্যে হাতা-হাতির ঘটনা ঘটে। সেই সময়ে পুরো উপজেলা চত্বরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উভয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়াতে হাটের ডাক নেয়া প্রশ্নে কোনো গ্রুপই কাউকে ছাড় দিতে নারাজ ছিলো। পরদিন সাংসদ শামীম ওসমান নিজে উপস্থিত হয়েই হুশিয়ারী দিয়ে বলেছিলেন, কেউ বিশৃঙ্খলা করলে হাত-পা ভেঙ্গে দিবো।

২০১৭ সালের ২৪ আগষ্ট, সাইনবোর্ড শান্তিধারা ইউনিট আওয়ামীলীগের সভাপতি রাজ্জাক বেপারীর সিডিউল ক্রয় করতে দেননি জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন। এ নিয়েও ঐ সময় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

২০১৬ সালে সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ হাটের ইজারা নিয়েও দুই পক্ষের মাঝে তুমুল বাতবিতন্ডার সৃষ্টি হয়, যার কারনে প্রথম দফা বাতিল করে দ্বিতীয় দফায় টেন্ডার জমা হয়। এ সময়ে তৎকালিন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষেই চলে বাদানুবাদ। নির্ধারিত সময়ে সিডিউল জমা দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছুড়েছেন।

অভিযোগ উঠেছিলো নির্ধারিত সময়ের পর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির গ্রুপ সিডিউল জমা দিতে গেলে কাউসার আহম্মেদ পলাশ সমর্থিতদের সঙ্গে বাকবিতন্ডার সূত্রপাত ঘটে। সিডিউল জমা দেয়ার নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর ১টা। কিন্তু দুপুর দেড়টার দিকে শিডিউল জমা দিতে যান সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির ও শাহআলম গাজী টেনুসহ তাদের অনুসারীরা।

নির্ধারিত সময়ের পরে সিডিউল জমা দিতে আসায় কাউসার আহাম্মেদ পলাশের লোকজন ফাতেমা মনির ও তাদের অনুসারীদের সিডিউল জমা দিতে বাধা দেন। এতে করে ফাতেমা মনির ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন।